এসএসসি ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা সাজেশন ( ssc islam suggestion) education ssc
আসসামু আলাইকুম শিক্ষার্থীরা কেমন আছো সবাই। ভালো আছো আশা করছি। আমি ও ভালো আছি। আজ আমরা এসএসসি এর ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয় এ কিছু প্রশ্ন দিবো। যা আপনাদের কাজে আসবে।
(এসএসসি ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা সাজেশন ( ssc islam suggestion) education ssc) আজ আমরা ৯-১০ শ্রেণির ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয় এর ২ অধ্যায় নিয়ে আলোচনা করো। আজ আমরা এই অধ্যায় থেকে ২ টা সৃজনশীল প্রশ্ন দিবো। আশা করি সবাই পাশে থাকবেন।
Education
শিক্ষা/education হলো এমন একটি বিষয় যার মধ্যমে মানুষ জ্ঞান অর্জন করে। আর জারা সঠিকভাবে সব কিছু শিখতে পারে তারা মানুষ এর মত মানুষ হতে পারে। তাই আমাদের সব সঠিকভাবে শিখতে হবে।
ssc
Ssc/ এসএসসি হলে ৯-১০ ম শ্রেনির মুল পরীক্ষা তারা ২ বছর যাযা পড়েছে এবং যা যা শিখেছে তা তাদের এই পরীক্ষা মাধ্যমে নেওয়া হয়। তারা যে যে রকম রেজাল্ট করে তাতে বোঝা যায় কে কি করছে এই ২ বছরে।
প্রশ্ন ও উওর
প্রশ্ন ১
সাজ্জাদ ও সাজিদ দুই প্রতিবেশী। সাজ্জাদ সাহেব শরিয়ত্নে বিধানসমূহ সঠিক নিয়মে পালনের চেষ্টা করেন। কারণ মানবজীবনে শরিয়তের গুরুত্ব তিনি অনুধাবন করতে পেরেছেন। অপরদিকে তার বন্ধু সাজিদ সাহেব বলেন, শরিয়তের ওপর আমি বিশ্বাসী নই। মানুষের বিবেকই যথেষ্ট। বিবেক অনুযায়ী কাজ করলে শরিয়তের প্রয়ােজন হয় না। উভয়ের বক্তব্য শুনে মসজিদের ইমাম সাহেব বলেন, শরিয়তকে অস্বীকার ব্রা আল্লাহ ও তার রাসুল (স) অস্বীকার করার নামান্তর। #)
ক. কাতিবে ওহি' কী?
খ. আমার উম্মতের উত্তম ইবাদত হলাে কুরআন তিলাওয়াত হাদিসটির মর্মার্থ ব্যাখ্যা করাে।
গ. সাজ্জাদ সাহেবের কর্মকাণ্ডে কী প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করাে।
ঘ, সাজিদ সাহেবের মনােভাব চিহ্নিত করে ইমাম সাহেবের বক্তব্য পাঠ্যবইয়ের আলােকে বিশ্লেষণ করাে।
প্রশ্নের উত্তর
ক) আল-কুরআন লিপিবদ্ধকারী সাহাবিদেরকে কাতিবে ওহি বা ওহি লেখক বলা হয়।
খ) কুরআন তিলাওয়াত বান্দার দুনিয়ার কল্যাণ এবং আখিরাতের সফলতা নিশ্চিত করে বিধায় এটি উত্তম ইবাদত। আল-কুরআন মহান আল্লাহর পবিত্র বাণী। এটি মানুষের প্রতি আল্লাহ তায়ালার এক বিশেষ নিয়ামত।
এটি তিলাওয়াতকারীর মর্যাদা সমুন্নত করে । আল-কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে বান্দা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সান্নিধ্য লাভ করতে পারে। যথাযথভাবে কুরআন তিলাওয়াত করার মাধ্যমে মানুষ দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা লাভ করতে পারে। আর এজন্যই রাসুল (স) বলেছেন- “আমার উম্মতের উত্তম ইবাদত হলাে কুরআন তিলাওয়াত।' (বায়হাকি)
গ) শরিয়তের বিধানসমূহ সঠিক নিয়মে পালন করায় সাজ্জাদ সাহেবের আচরণে ইমানের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
ইমান শব্দের অর্থ বিশ্বাস করা, স্বীকৃতি দেওয়া, মেনে নেওয়া ইত্যাদি । *'রয়রে যাবতীয় বিধি-বিধান অন্তরে বিশ্বাস করা, মুখে স্বীকার করা এবং তদনুযায়ী আমল করাকে ইমান বলে। প্রকৃত মুমিন হওয়ার জন্য এ তিনটি বিষয় থাকা জরুরি। সাজ্জাদ সাহেবের মধ্যে এমন বৈশিষ্ট্যই দেখা যায় । উদ্দীপকে সাজ্জাদ সাহেব শরিয়তের বিধানসমূহ সঠিক নিয়মে পালনের চেষ্টা করেন। কারণ মানবজীবনে শরিয়তের গুরুত্ব তিনি বুঝতে পেরেছেন। আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসুল (স) মানবজাতির সার্বিক কল্যাণের জন্য নানা বিধি-বিধান ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। এসব পরিপূর্ণ আনুগত্য অনুসরণ এবং বাস্তব জীবনে প্রয়ােগ করা ইমানের অন্যতম দাবি। কেউ শুধু এসব বিধান মুখে স্বীকারােক্তি দিলাে কিন্তু কাজে বাস্তবায়ন করলাে না সে ইমানদার হিসেবে গণ্য হবে না। বস্তুত মৌখিক স্বীকৃতি ও তদনুযায়ী আমলের সমষ্টিই হলাে প্রকৃত ইমানদারের বৈশিষ্ট্য, যেটি সাজ্জাদ সাহেবের কর্মকাণ্ডে প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ) শরিয়ত অস্বীকার করায় সাজিদ সাহেবের মনােভাবে কুফরি প্রকাশ পেয়েছে। এর কুফল ও পরিণতি সম্পর্কে ইমাম সাহেবের বক্তব্যটি যথার্থ। শরিয়ত অর্থ পথ, জীবন পদ্ধতি, আইন-কানুন, বিধি-বিধান ইত্যাদি।
মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (স) যেসব আদেশ-নিষেধ ও পথ নির্দেশনা মানুষকে জীবন পরিচালনার জন্য প্রদান করেছেন তাকে শরিয়ত বলে । মানবজীবনের সকল কাজই শরিয়তের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এর অনুসরণ অপরিহার্য। এটি অস্বীকার করা কুফরির মিল। সাজিদ সাহেব শরিয়ত অস্বীকার করে আল্লাহ ও তার রাসুল (স)-কে অস্বীকার করেছে, যেটি ইমাম সাহেবের বক্তব্যেও প্রকাশ পেয়েছে ।
উদ্দীপকের সাজিদ সাহেব বলেন, আমি শরিয়তের ওপর বিশ্বাসী না। কারণ মানুষের বিবেক অনুযায়ী কাজ করলে শরিয়তের প্রয়ােজন হয় । কিন্তু শরিয়ত হলাে জীবন পরিচালনার দিকনির্দেশনা। এর মাধ্যমে জীবনের নানা ক্ষেত্রে ইসলামি বিধি-নিষেধ জানা যায়।
কোনটি হালাল কোনটি হারাম তা জানা যায়। ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত, নফল ইত্যাদি বিষয়ের জ্ঞানও শরিয়তের শিক্ষার মাধ্যমেই লাভ করা যায়। কিন্তু সাজিদ সাহেবের শরিয়ত অস্বীকার করে কুফরি করেছেন। আর এটি অস্বীকার করা আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসুলকে অস্বীকার করার নামান্তর। এমনকি শরিয়তের এক অংশ পালন করা আর অন্য অংশ অস্বীকার করাও মারাত্মক পাপ (কুফর)।
যে ব্যক্তি এরূপ করে তার জন্য কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, তবে কি তােমরা কিতাবের কিছু অংশ বিশ্বাস করাে, আর কিছু অংশ প্রত্যাখ্যান করাে? তােমাদের যারা এরূপ করে তাদের একমাত্র প্রতিফল হলাে পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনা-গঞ্জনা আর কিয়ামতের দিন তারা কঠিনতম শাস্তির দিকে নিক্ষিপ্ত হবে।' (সূরা আল-বাকারা, আয়াত-৮৫)
পরিশেষে বলা যায়, মানুষের সার্বিক জীবনাচরণে শরিয়তের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই সবার উচিত শরিয়তের বিধি-বিধান মেনে সুস্থ ও সুন্দরভাবে জীবন পরিচালনা করা ।
প্রশ্ন ২
নয়ন ও চয়ন একই শ্রেণির শিক্ষার্থী। শরিয়তের উৎসগুলাে নিয়ে তাদের মধ্যে আলােচনা হচ্ছিল। নয়ন বলল, ইসলামি শরিয়তের সকল বিধি-বিধানের মূল উৎস হলাে আল-কুরআন। এর ওপরই ইসলামি শরিয়তের ভিত্তি ও কাঠামাে প্রতিষ্ঠিত। চয়ন বলল, শরিয়তের সকল উৎসই সমান গুরুত্বপূর্ণ। উত্তরে নয়ন বলল, শরিয়তের সর্বপ্রথম ও সর্ব প্রধান উৎস হলাে আল-কুরআন। প, ৩২
ক. বায়তুল ইযযাহ কোথায় অবস্থিত?
খ, হাদিসকে কুরআনের ব্যাখ্যা বলা হয় কেন?
গ. চয়নের উক্তিটি শরিয়তের দৃষ্টিতে কীরূপ? ব্যাখ্যা করাে।
ঘ, নয়নের দ্বিতীয় উক্তিটির যথার্থতা প্রমাণ করাে।
প্রশ্নের উত্তর
ক) বায়তুল ইযযাহ প্রথম আসমানে অবস্থিত ।
খ) কুরআনে বর্ণিত বিধানাবলি বিস্তৃতরূপে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে বলে একে আল-কুরআনের ব্যাখ্যা বলা হয়।
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে শরিয়তের যাবতীয় আদেশ-নিষেধ, বিধি-বিধান ও মলনীতি অত্যন্ত সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর মহানবি (স) এসব বিধি-বিধান আল্লাহর নির্দেশে স্পষ্টরূপে বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ হাদিসে কুরআনের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা বর্ণনা করা হয়েছে । গ শরিয়তের দৃষ্টিতে চয়নের উক্তিটি সঠিক নয়।
গ)
শরিয়ত হলাে ইসলামি জীবন পদ্ধতি। এ বিষয়টি চারটি উৎসের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই উৎসসমূহের প্রতিটিই স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। একটির সাথে অন্যটি তুলনীয় নয়। আর সব উৎসের গুরুত্বও সমান নয়। চয়নের উক্তিতে এ সত্যের প্রতি অস্বীকৃতি প্রকাশ পেয়েছে।
চয়ন বলেছে, শরিয়তের সকল উৎস সমান গুরুত্বপূর্ণ। তার এ কথা ভিত্তিহীন। কারণ শরিয়তের প্রধান উৎস দুটি। যথা— আল-কুরআন ও আল-হাদিস বা সুন্নাহ ।
পরবর্তীতে কুরআন ও সুন্নাহর স্বীকৃতি ও নির্দেশনার ভিত্তিতে ইজমা ও কিয়াস নামে শরিয়তের আরও দুটি উৎস নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে আল-কুরআন মহান আল্লাহর বাণী।
শরিয়তের ব্যাপারে এটা অকাট্য দলিল। এটি অস্বীকার করা মহান আল্লাহ তায়ালাকে অস্বীকার করার শামিল। আবার হাদিস মহানবি (স) এর বাণী ।
এটি অস্বীকার করা তাকে অস্বীকার করারই শামিল। কোনাে মুসলমান কুরআন ও হাদিস অস্বীকার করলে সে কাফির হয়ে যায়। তাই কুরআন ও হাদিস মানা হলাে ফরজ। অপরপক্ষে, ইজমা ও কিয়াসের প্রতি অস্বীকৃতি কুফরের পর্যায়ভুক্ত নয়। ইজমা ও কিয়াসে বিশ্বাস ও মেনে চলা ওয়াজিব। এ কারণে চয়নের উক্তিটি শরিয়তবিরুদ্ধ।
ঘ) নয়নের দ্বিতীয় উক্তিটি নিঃসন্দেহে যথার্থ বিষয়টিই প্রকাশিত হওয়ায় তার দ্বিতীয় উক্তিটি সঠিক।
শরিয়ত হলাে এমন সুদৃঢ় ও সুস্পষ্ট পথ, যা অনুসরণ করলে মানুষ সুষ্ঠুভাবে নিজ গন্তব্যে পৌছাতে পারে। আর নিজ গন্তব্যে পৌছার সর্বোত্তম মাধ্যম হলাে কুরআনের অনুসরণ। এ বিষয়টিই নয়নের দ্বিতীয় উক্তিতে প্রকাশ পেয়েছে।
নয়নের দ্বিতীয় উক্তিটি হলাে— শরিয়তের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান উৎস আল-কুরআন। তার এ মন্তব্যের সত্যতার প্রমাণ আল-কুরআনেই পাওয়া যায়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'আমি আপনার প্রতি কিতাব নাজিল করেছি প্রত্যেক বিষয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যাস্বরূপ।' (সূরা আন-নাহল, আয়াত-৮৯)
অর্থাৎ ইসলামি শরিয়তের সব বিধি-বিধানের মূল বিষয় কুরআনে আছে। এর ওপরই ইসলামি শরিয়তের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত। এটি শরিয়তের অকাট্য ও প্রামাণ্য দলিল। মানবজীবনের জন্য প্রয়ােজনীয় সব বিষয়ের সমাধানমূলক মূলনীতি ও ইঙ্গিত আল-কুরআনে বিদ্যমান।
আল-কুরআন মহান আল্লাহর বাণী। এটি সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব । আল্লাহ সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবি ও রাসুলের ওপর এ কিতাব নাজিল করেছেন। আর সকল মানুষকে এ কিতাবেরই অনুরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
কারণ এতে মানবজাতির জীবন পরিচালনার সুস্পষ্ট মূলনীতি ও নির্দেশনা বিদ্যমান। আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর অবশ্যই আমি মানুষের জন্য এ কুরআনে বিভিন্ন উপমা বিশদভাবে বর্ণনা করেছি’ (সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত-৮৯) এসব কারণে আল-কুরআনই শরিয়তের প্রথম ও প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচ্য। নয়নের কথায় এ
শেষ
আজকের টপিক টি এখানে শেষ করছি আমি। আল্লাহ হাফেজ

অসাধারণ
উত্তরমুছুন