অষ্টম শ্রেণির বাংলা সৃজনশীল প্রশ্ন ও উওর ( jsc examination)

 অষ্টম শ্রেণির বাংলা সৃজনশীল প্রশ্ন ও উওর 


আসসামু আলাইকুম সবাইকে।  কেমন আছেন। আশা করি সবাই ভালো আছো বা আছেন। আমি ও ভালো আছি তোমাদের দোওয়াই  আমি ভালো আছি। আর আমাদের দেশে স্কুল খুলবে।১২ তারিখ। 


আমাদের দেশ ১৭ মাস স্কুল বন্ধ থাকার পর আমরা আশা করছি ১২ তারিখ এই মাসের। এই ১৭ মাস স্কুল বন্ধ থাকার কারণে সরকার তোমাদের পাঠ দানের জন্য অনলাইন ক্লাস এবং তোমাদের এসাইনমেন্ট দেয়েছে।




কিন্ত অবশেষে স্কুল খুলে দেওয়া  ঘোষণা এসেছে। আর এই এসাইনমেন্ট এর সব উওর তোমরা আমাদের মত আনেক সাইট থেকে উওর নিয়েছো। তাই ১৪ সপ্তাহের এসাইনমেন্ট শেষ এসাইনমেন্ট বলে আমরা ধারণা করছি। তাই এখন থেকে আমরা বিভিন্ন ক্লাস এর সমাধান দিবো।

আর আজ আমরা বাংলা  সাজেশন বা প্রশ্ন  দিবো।


Meta tag:
 

প্রশ্ন ও উওর 

 বাংলা ১ম

...…

---------------------------------------------------------------------------

---------------------------------------------------------------------------

১ নং সৃজনশীল 

মধ্যবিত্ত পরিবারের যােগেন সন্তানের জন্মদিনে গ্রামের অন্যান্যদের সাথে বিত্ত্বশালী রূপেশ বাবুকেও নিমন্ত্রণ করেন। নিমন্ত্রণে এসে রূপেশ বাবু দেখেন মালিনী শােভা দুই হাতে মসলা বাটছে। এ দৃশ্য দেখে না খেয়ে তিনি জরুরি কাজের কথা বলে বাড়ি চলে যান। তার এ আচরণে উপস্থিত সকলেই মর্মাহত হন। 


 ক. লালন শাহের গুরু কে ছিলেন? 

 

খ. কূপজল ও গঙ্গাজল কীভাবে অভিন্ন সত্তা? বুঝিয়ে লেখাে। 

 


গ. উদ্দীপকে রূপেশবাবুর আচরণে মানবধর্ম' কবিতার যে দিকটি ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা করাে। 


ঘ. মালিনী শােভার মতাে মানুষের মূল্যায়নের জন্য মানবধর্ম’ কবিতার বক্তব্যের যথার্থতা বিচার করাে।




১নম্বর প্রশ্নের উত্তর 



ক) লালন শাহের গুরু ছিলেন সিরাজ সাঁই।


খ কূপজল ও গঙ্গাজল উভয়েরই মূল উপাদান জল হওয়ায় তারা অভিন্ন সত্তা।


জল কূপে থাকলে তাকে মানুষ কূপজল বলে এবং জল গঙ্গায় থাকলে তাকে গঙ্গাজল বা পবিত্র জল হিসেবে বিবেচনা করে। কিন্তু কূপজল ও গঙ্গাজলের মূল উপাদান এক আর তা হলাে জল। এখানে কেবল জলের আধারের ভিন্নতা। তাই জাত-পাত-বর্ণ সবকিছুকে ছাপিয়ে জলের পরিচয়ই বড় কারণ কূপজল ও গঙ্গাজল উভয়ের মূল উপাদান একই । অর্থাৎ দুটিই অভিন্ন সত্তা।




গ) উদ্দীপকে রূপেশ বাবুর আচরণে মানবধর্ম’ কবিতায় উল্লিখিত জাতপাতের ভেদাভেদের দিকটি ফুটে উঠেছে।


মানবধর্ম’ কবিতায় লালন শাহ বলেছেন তিনি কোনাে জাত-ধর্মে বিশ্বাসী নন। তাঁর কাছে মনুষ্যধর্মই হলাে প্রধান ধর্ম। জন্ম বা মৃত্যুকালে মানুষের যেমন কোনাে জাত থাকে না তেমনি জীবদ্দশায় এবং সামাজিক জীবনেও কোনাে জাত-পাতে ভেদাভেদ থাকতে পারে না। তিনি কোনাে ধর্মকে



এককভাবে বিশ্বাস করেননি। তাঁর মতে, মানুষের একটাই ধর্ম আছে, আর


তা হলাে- মানবধর্ম । | উদ্দীপকে মধ্যবিত্ত পরিবারের যােগেন সন্তানের জন্মদিনে গ্রামের অন্যদের সাথে বিত্তশালী রূপেশবাবুকেও নিমন্ত্রণ করেন। অনুষ্ঠানে এসে রূপেশবাবু মালিনী শােভাকে দুই হাতে মসলা বাটতে দেখেন। এ দৃশ্য দেখে না খেয়ে জরুরি কাজের অজুহাত দেখিয়ে বাড়ি চলে যান তিনি। তার এমন আচরণে সকলেই মর্মাহত হন। মানবধর্ম' কবিতায় এমন জাত-পাতের বৈষম্যকে কবি অস্বীকার করেছেন। মানবধর্ম' কবিতায় উল্লিখিত জাত-পাতের ব্যবধানের দিকটি উদ্দীপকের রূপেশ বাবুর আচরণে ফুটে উঠেছে।





 ঘ) মালিনী শােভা নিচুশ্রেণির হলেও যােগেন তাকে মূল্যায়ন করেছে যা ‘মানবধর্ম' কবিতার অন্তর্নিহিত বিষয়।


লালন শাহ মানবধর্ম’ কবিতায় মানুষের প্রকৃত মানবিকতার দিকটি তুলে ধরেছেন। তার মতে তসবি আর মালা দেখে মানুষকে আলাদা করা যায় না। কেননা পৃথিবীতে কেউ জাতের চিহ্ন নিয়ে জন্মগ্রহণ করেনি।


উদ্দীপকে আমরা দেখি মালিনী শােভা নিচুজাতের হলেও যােগেন তাকে সন্তানের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে মসলা বাটার দায়িত্ব দিয়েছে। রূপের বাবু শােভাকে নিচুজাত বলে ঘৃণার চোখে দেখেছে। বাকিরা শােভাকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে মানবধর্ম’ কবিতায়ও সকল বাহ্যিক পরিচয় ভুলে গিয়ে মানুষকে মানুষ পরিচয়ে চিনতে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।


উদ্দীপকের মালিনী শােভা নিচুজাতের হতে পারে কিন্তু তার গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় সে মানুষ । যােগেনের সন্তানের জন্মদিনে সে মসলা বাটার দায়িত্ব পায়। নিচুজাতের হলেও তার মশলা বাটার দিকটি তাকে মানুষ হিসেবে পরিচয়ের বিষয়টি প্রকাশ করেছে।


উদ্দীপকের যােগেন মালিনী শােভাকে মূল্যায়ন করেছে। সে নিচুশ্রেণির বলে তাকে অবহেলা করেনি। লালন শাহ মানবধর্ম' কবিতায় এই একই কথা বলেছেন। তিনি পৃথিবীতে মানুষে মানুষে শ্রেণিভেদের কথা বিশ্বাস করেননি। তিনি বলেছেন মানুষ এক জাতি। তাই বলা যায়, মালিনী শােভার মানুষ হিসেবে মূল্যায়নে মানবধর্ম' কবিতার বক্তব্যের যথার্থতা ফুটে উঠেছে।


২ নং সৃজনশীল প্রশ্ন


৯ রাম কিংবা রহিম আমাদের এখানে দুটি নাম শুধ খাদিজার দুঃখে যেমন ইন্দুবালা কাঁদে, তেমনি রামের বিপদে পাশে দাঁড়ায় রহিম। এই আমাদের বাংলাদেশ। সবাই মিলে ভালাে থাকাটাই আমাদের শিক্ষা। আমাদের ভ্রাতৃত্ববােধ আমাদেরকে পৌঁছে দিচ্ছে অনন্য এক উচ্চতায়। যেখান থেকে তাকালে সবাইকে সমান মনে হয়। সব মানুষকে আপন মনে হয়। আমরা শুধু একটি দীক্ষায়ই দীক্ষিত হই, ভালােবাসা সবার জন্য। সেফর, ২০১৭)


(তথ্যসুত্র সৈনিক যুগফর, 


 ক. লালন শাহ কীসের রূপ দেখেননি? 

 

খ)ললাকে কী নিয়ে গৌরব করে? কেন? 


গ, উদ্দীপক এবং মানবধর্ম' কবিতার মধ্যকার সাদৃশ্য তুলে ধরাে।




ঘ. বিভেদহীন সমাজ গঠনে ভ্রাতৃত্ববােধের গুরুত্ব ‘মানবধর্ম’ কবিতা এবং উদ্দীপকের আলােকে বিশ্লেষণ করাে।




২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর 


ক) লালন শাহ্ জাতের রূপ দেখেননি। 


খ) লােকে সংকীর্ণ মানসিকতার কারণে জাত-পাত নিয়ে গৌরব করে। বর্তমান সমাজে জাত-পাত নিয়ে মানুষের মধ্যে বিভেদ বিদ্যমান। সেই পুরাকাল থেকে সমাজের উচ্চবিত্তরা তথাকথিত জাত নিয়ে গর্ব করে, আস্ফালন করে। সমাজের প্রান্তে যাদের বসবাস তারা এদের দ্বারা নিগৃহীত। সমাজের উচ্চবিত্তরা নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করার কারণে নিজেদের শ্রেষ্ঠ মনে করে এবং এজন্য তারা জাত-পাত নিয়ে গৌরব করে। অর্থাৎ নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য সমাজের একদল মানুষ জাত-পাত নিয়ে গর্ব করে।




গ। মানবধর্ম' কবিতায় মানবসত্তার যে গুরুত্ব উপস্থাপিত হয়েছে সেদিক থেকে উদ্দীপক এবং মানবধর্ম' কবিতার মধ্যে সাদৃশ্য বিদ্যমান গুরুত্ব তুলে ধরা



মানবধর্ম কবিতায় লালন শাহ পৃথিবীতে বিদ্যমান জাত-পাত এবং ধর্মের প্রতি অনাস্থা স্থাপন করেছেন। তার মতে, এগুলাে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ সৃষ্টি করছে, মানুষের মধ্যে জাত-ধর্ম নিয়ে অহংবােধ তৈরি করছে। ফলে মানুষ ভুলেছে তার প্রকৃত মর্যাদা। আর তাই লালন সমাজের মানুষের মধ্যকার চলমান পরিস্থিতি দেখে পৃথিবীতে একটি ধর্ম স্থাপন করতে চান, আর তা হলাে মানবধর্ম'।


ঘ) উদ্দীপকে আমরা কবির প্রত্যাশিত সেই সমাজের চিত্র দেখতে পাই। এ সমাজে কোনাে ধর্মীয় বিভেদ নেই। সবাই মিলে ভালাে থাকাই এ সমাজের মূলকথা । এই বিভেদহীন সমাজ মানুষের প্রকৃত মর্যাদাকে প্রতিষ্ঠিত করবে, যার ভিত্তি হবে মানবধর্ম’ । সুতরাং, মানবধর্মের পরিচয় তুলে ধরা এবং বিভেদহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় উদ্দীপকটি ‘মানবধর্ম' কবিতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। ঘি উদ্দীপক ও ‘মানবধর্ম’ কবিতায় বিভেদহীন সমাজ গঠনে ভ্রাতৃত্ববােধের হয়েছে।



‘মানবধর্ম' কবিতায় লালন ফকির নিজেকে বিশেষ কোনাে ধর্ম বা বিশেষ কোনাে জাতের মানুষ হিসেবে পরিচয় দেননি। তার মতে, মনুষ্যধর্মই মূলকথা । মনুষ্যধর্ম মানুষকে জাত-পাতের বিভেদ থেকে মুক্ত করে, সমাজে প্রতিষ্ঠা করে সমতা, ভ্রাতৃত্ববােধ। তাঁর মতে, জন্ম এবং মৃত্যুর সময় মানুষের কোনাে ধর্মীয় বা জাতিগত পরিচয় থাকে না। তখন সে কেবলই একজন। মানুষ। তাই তিনি জাতি-ধর্ম সবকিছুর উর্ধ্বে মনুষ্যধর্মকে স্থাপন করেছেন।


উদ্দীপকে মনুষ্যধর্ম এবং ভ্রাতৃত্ববােধের কথা বলা হয়েছে। ভ্রাতৃত্ববােধে পূর্ণ আমাদের দেশে মানুষ সুখে-দুঃখে, বিপদে-আপদে একে অপরের পাশে দাঁড়ায়। এখানে সবাই সমান, সবাই মিলে ভালাে থাকাটাই মূলকথা। জাতি, ধর্ম এখানে প্রধান নয়। মানবধর্ম’ কবিতায় মানুষের এ মর্যাদাই লালন শাহ


প্রত্যাশা করেন।


ওপরের আলােচনা থেকে বিষয়টি স্পষ্ট যে, ভ্রাতৃত্ববােধ সমাজ থেকে সকল বিভেদ দূর করে। পারস্পরিক সহযােগিতার এই বােধ সমাজের সকল মানুষকে একত্র করে একই ছায়াতলে। সমাজ থেকে সব বিভেদ দূর করতে হলে, ভ্রাতৃত্ববােধের কোনাে বিকল্প নেই। মানবধর্ম ও ভ্রাতৃত্ববােধ যদি সামজের ভিত্তি হয়, তাহলে সমাজে কোনাে বিভেদ থাকবে না।


শেষ


আজকের টপিক টি এখানে শেষ করছি।  

Md Nayeem Hasan neion

আমার নাম নাঈম হাসান (নিয়ন). আমি ব্লগ লিখতে ভালোবাসি .facebook

1 মন্তব্যসমূহ

নবীনতর পূর্বতন

জেএসসি