Jsc বাংলা সাজেশন ২০২১(jsc bangla) ৮ম শ্রেনির বাংলা সাজেশন
সাজেশন প্রশ্ন ও উওর
প্রশ্ন ১/
১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘােষণা দেন। তিনি বলেন‘এটাই হয়তাে আমার শেষ বার্তা।
আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন।'
“বাংলাদেশের মানুষ যে যেখানে আছেন, আপনাদের যা কিছু আছে তা দিয়ে সেনাবাহিনীর দখলদারির মােকাবিলা করার জন্য আমি আহ্বান জানাচ্ছি। পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর শেষ সৈন্যটিকে বাংলাদেশের মাটি থেকে উৎখাত করা এবং চূড়ান্ত বিজয অর্জিত ন হওয়া পর্যন্ত আপনাদেরকে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।”
ক. পাকিস্তানি কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু কত তারিখে ঢাকায় ফেরেন?
খ)‘তােমার আমার ঠিকানা পদ্মা মেঘনা যমুনা' বলতে কী বােঝানােহয়েছে?
গ. উদ্দীপকের বক্তব্যের সঙ্গে এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম' ভাষণের তুলনা করাে।
ঘ)'৭ই মার্চের ভাষণ হােক কিংবা স্বাধীনতার সকল ক্ষেত্রেই বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের অগ্রদূত’উদ্দীপক ও 'এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম' রচনার আলােকে বিচার করাে।
উত্তরঃ
ক) পাকিস্তানি কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ
খ) মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারি ঢাকায় ফেরেন। খতােমার আমার ঠিকানা পদ্মা মেঘনা যমুনা' বলতে বােঝানাে হয়েছে যে বাংলার মাটিই হলাে বাঙালির একমাত্র নিরাপদ আশ্রয় । দেশ বিভাগের পর থেকে বাঙালিরা দেশেই পরবাসীর মতাে মি পরিপ্রেক্ষিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহ 'বাংলার ইতিহাস এদেশের মানুষের রক্ত দিয়ে { ইতিহাস। তাই বাংলার মানুষ আজ মুক্তি ৮ এবং অধিকার চায়। বাংলার মাটি ও সম্পদ, তাই বাঙালি এগুলােকে নিজে বাংলার মাটিই বাঙালির শেষ আশ্রয় ।
গ) উদ্দীপকের বক্তব্যের সঙ্গে এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম
রচনার বক্তব্যের প্রেক্ষাপটগত ভিন্নতা রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যে অসহযােগ আন্দোলন চলছিল তারই পরিপ্রেক্ষিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ই মার্চের ভাষণ দেন। এ ভাষণে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য সকলকে প্রস্তুত থাকতে বলেন। এছাড়াও তিনি ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলতে বলেন। তার এ ভাষণে মুক্তিসংগ্রামের দিকনির্দেশনা যেমন ছিল, তেমনি ছিল বাঙালিদের ওপর দখলদার পাকিস্তানিদের অত্যাচারের কথা। কিন্তু এখানে তিনি সরাসরি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘােষণা করেননি। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে স্বাধীনতার ঘােষণা দেন তা উদ্দীপকটিতে বর্ণিত হয়েছে। সে ঘােষণায় বঙ্গবন্ধু চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এদেশের জনগণকে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে আহ্বান জানান এবং দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘােষণা করেন আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন।' এ দিক থেকে উদ্দীপকের বক্তব্য ৭ই মার্চের বক্তব্য থেকে অনেকটাই ভিন্ন।
ঘ, 'এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম' রচনা ও উদ্দীপকের বিষয়বস্তুর পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন ৭ই মার্চের ভাষণ দেন ততদিনে তিনি জাতির অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হয়েছেন। তার নেতৃত্বে মুগ্ধ হয়ে সমগ্র বাঙালি জাতি তাঁর নির্দেশনা মেনে চলছিল। এ বক্তৃতায় তিনি বাঙালিদের একটি অনাগত মুক্তিসংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।
১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘােষণা করেন, যা উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে। স্বাধিকার আন্দোলনের অগ্রদূত হিসেবে তিনি সেদিন বলেছিলেন, 'এটাই হয়তাে আমার শেষ বার্তা। আজ থেকে বাংলাদেশ ধন।' তিনি আরও বলেছিলেন, চুড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত Fপনাদেরকে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।' এ ঘােষণা প্রমাণ করে সমগ্র বলি জাতির ওপর তার প্রভাব ছিল কতখানি।
উপযুক্ত আলােচনা থেকে বলা যায়, ৭ই মার্চের ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতির তা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালিদের কাছে অবিসংবাদিত নতায় পরিণত হন। বঙ্গবন্ধুই বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের অগ্রনায়ক। তিনিই বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের অগ্রদূত। সে দিক বিবেচনায় প্রশ্নে মন্তব্যটি যথাযথ অর্থবহ।
প্রশ্ন ২()
তখন পলকে দারুণ ঝলকে তরিতে উঠিল জল,
হৃদয়ে লাগিল দোলা, জনসমুদ্রে জাগিল জোয়ার
সকল দুয়ার খােলা। কে রােধে তাঁহার বজ্রকণ্ঠ বাণী? গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শােনালেন তাঁর অমর কবিতাখানি; এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।' সেই থেকে স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের।
ক. ব্যারাক’ শব্দটির অর্থ কী? ১
খ. রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব’– এ কথা বলার কারণ কী? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত কবিতাংশের কবি' প্রকৃতপক্ষে এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম' রচনার কোন চরিত্রকে নির্দেশ করছে? ব্যাখ্যা করাে।
ঘ. “স্বাধীনতা অর্জনে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের গুরুত্ব দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রকাশ পেয়েছে”– এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম' প্রবন্ধের আলােকে উক্তিটির যথার্থতা যাচাই করাে।
উত্তরঃ
ক) ব্যারাক’ শব্দটির অর্থ সেনাছাউনি।
খ। স্বদেশ ও স্বাধীনতার জন্য বাঙালির বারবার আত্মত্যাগের বিষয়টি বােঝাতেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ৭ই মার্চের ভাষণে স্বদেশের জন্য বাঙালির রক্ত ঝরানাের ধারাবাহিক ইতিহাস টেনেছেন। বাঙালিকে স্বাধিকারের জন্য ১৯৫২, ১৯৫৮, ১৯৬৬ এবং ১৯৬৯ সালে। রক্ত দিতে হয়েছিল। এই রক্তদানের পরিপ্রেক্ষিত টানতে গিয়ে তিনি তার ভাষণে বলেছেন, 'রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব’। মূলত বঙ্গবন্ধুর এই উক্তির মাধ্যমে স্বাধীনতার জন্য রক্তদানের শপথ উচ্চারিত হয়েছে।
গ. উদ্দীপকের কবিতাংশের কবি’ স্বাধীনতার আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ রচনার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্দেশ করছে।
‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ রচনায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণটি তুলে ধরা হয়েছে। এই ভাষণের মাধ্যমে মূলত তিনি বাঙালিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করেছিলেন। এই ভাষণে তিনি সবাইকে স্বাধীনতার জন্য ঝাপিয়ে পড়তে আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাঙালি স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয় এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়।
উদ্দীপকের কবিতাংশে স্বাধীনতার আহ্বান ধ্বনিত হয়েছে। সেখানে উল্লিখিত কবি তথা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে যেন জনসমুদ্রে জোয়ার তৈরি হয়েছে। তার স্বাধীনতার ডাক লক্ষ লক্ষ জনতাকে উজ্জীবিত করেছে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত জনতা তার এই আহ্বান শােনার জন্যই অপেক্ষা করছিল। সংগত কারণেই উদ্দীপকের কবির এই স্বাধীনতার আহ্বান আলােচ্য রচনায় বর্ণিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার আহ্বানেরই প্রতিরূপ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের কবি আলােচ্য রচনার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেই নির্দেশ করছে।
ঘ) উদ্দীপক এবং এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম' রচনায় পরাধীন জাতিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ হয়ে উঠেছে
শ | ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম' রচনায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ স্ত | মুজিবুর রহমান কর্তৃক বাঙালিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করার গ্ৰ |
প্রসঙ্গটি ফুটে উঠেছে। তিনি পরাধীন বাঙালিকে মুক্ত করতে চেয়েছিলেন। এজন্য ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণে বাঙালিকে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলতে বলেছিলেন। তিনি শৃঙ্খলমুক্ত হতে সবাইকে প্রতিরােধ গড়ে তােলার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এজন্যই তিনি বলেছিলেন, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম উদ্দীপকের কবিতাংশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কবি বলে অভিহিত করা হয়েছে। তিনি জাতিকে মুক্তির জন্য সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছেন। গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে তিনি বজ্রকণ্ঠে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন। তার ডাকে জনসমুদ্রে দোলা লেগেছে। সবাই মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় উদ্বেল হয়ে পড়েছে এই আহ্বান শুনে। উদ্দীপক ও আলােচ্য রচনা উভয়ক্ষেত্রেই মূলত স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত হওয়ার আহ্বান ধ্বনিত হয়েছে। বাংলার অত্যাচারিত ও নিপীড়িত মানুষের
। | | মুক্তির জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ডাক দিয়েছিলেন। তাঁর বলিষ্ঠ আহ্বানে সেদিন লক্ষ জনতা যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ার প্রেরণা পেয়েছিল যা আলােচ্য রচনায় ও উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে। সার্বিক বিচারে তাই বলা যায়, স্বাধীনতা অর্জনে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের গুরুত্ব দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রকাশ পেয়েছে’ প্রশ্নোত এই মন্তব্যটি উদ্দীপক ও আলােচ্য প্রবন্ধের আলােকে যথার্থ হয়ে উঠেছে
ব | ত |
সাজেশন মেষ
আজকের টপিক টি এখানে শেষ করলাম
