অষ্টম শ্রেণি ইসলাম : ৫ম অধ্যায় প্রশ্ন ও উওর ২০২১
১ নং সৃজনশীল
প্রশ্ন ১ জনাব আকমল একজন শিক্ষক। তিনি শ্রেণিতে এমন একজন নবি সম্পর্কে আলােচনা করছিলেন, যিনি শত্রুর ঘরে প্রতিপালিত হন। মহান আল্লাহ তাঁকে রাসুল হিসেবে মনােনীত করেছিলেন। হাবিব নামক একজন শিক্ষার্থী বলল, স্যার আমি এমন একজন নবির কথা শুনেছি, যিনি ছিলেন বিশ্বশান্তির অগ্রদূত এবং সমস্ত বিশ্বে তিনিই শান্তির ফোয়ারা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পাঠ-২ ও ৪/ক কে, '১৯, র বাে ১৯/
ক. তাকদিরে বিশ্বাস কী?
খ. ‘আমিই শেষ নবি। আমার পরে আর কোনাে নবি আসবেন না’— এ হাদিসখানার মর্মার্থ ব্যাখ্যা করাে।
গ. আকমল সাহেবের আলােচনায় যে নবির জীবনী ফুটে উঠেছে তাঁর নবুয়ত লাভের চিত্রটি ব্যাখ্যা করাে।
ঘ, হাবিবের উল্লেখিত নবিকে চিহ্নিত করে তার মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করাে।
১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর।
ক) তাকদিরে বিশ্বাস বলতে আল্লাহ তায়ালা থেকে নির্ধারিত ভালাে-মন্দ সবকিছুর উপর বিশ্বাস স্থাপন করাকে বােঝায়।
খ। আমিই শেষ নবি । আমারে পরে আর কোনাে নবি আসবেন না’
হাদিসটিতে খতমে নবুয়তের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। নবি প্রেরণের কারণ হলাে পূর্ববর্তী নবির শিক্ষা বিলুপ্ত হওয়া, অসম্পূর্ণ থাকা | কিংবা তাঁর শিক্ষা কোনাে স্থান বা সময়ের জন্য নির্দিষ্ট হওয়া। কিন্তু মহানবি (স.)-এর পর এ কারণগুলাের কোনােটিই বর্তমান বা ভবিষ্যতের জন্য প্রযােজ্য নয়। কারণ মহানবি (স.) কোনাে বিশেষ স্থান বা কালের জন্য প্রেরিত হননি। বরং তিনি সর্বকালের সবারই নবি। তাঁর শিক্ষা পরিপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ। আর কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর শিক্ষা অবিকৃত ও উত্তম আদর্শ হিসেবে বিদ্যমান থাকবে। এজন্য মহানবি (স.) নিজেই বলেছেন, আমিই শেষ নবি । আমার পরে আর কোনাে নবি আসবেন না।' (সহিহ মুসলিম)
গ) আকমল সাহেবের আলােচনায় হযরত মুসা (আ.)-এর জীবনী ফুটে উঠেছে।
হযরত মুসা (আ.) এমন এক দুঃসময়ে জন্ম গ্রহণ করেন, যখন | ফিরআউনের সেনাবাহিনী ইসরাইলি পুত্রসন্তানদের হত্যা করতাে। কিন্তু আল্লাহর অশেষ মহিমায় ফিরআউনের সৈন্যবাহিনী মুসা (আ.)-এর জন্মের খবর পর্যন্ত জানতে পারেনি। এমনকি জন্মের পর আল্লাহর নির্দেশানুযায়ী মুসা (আ.) তার শত্রু ফিরআউনের ঘরেই লালিত পালিত হন। যা আকমল সাহেবের আলােচনায়ও প্রতিফলিত হয় ।
উদ্দীপকের আকমল সাহেব শ্রেণিকক্ষে এমন একজন নবি সম্পর্কে | আলােচনা করেন যিনি শত্রুর ঘরে পালিত হন। মহান আল্লাহ তাকে | রাসুল হিসেবে মনােনীত করেছিলেন। তার এ বক্তব্যে মুসা (আ.)-এর | প্রতিই ইঙ্গিত পাওয়া যায়। মুসা (আ.) নবুয়ত লাভ করেছিলেন তুর পাহাড়ের পাদদেশে ‘তুয়া’ নামক উপত্যকায়। মাদইয়ান থেকে মিসরে | আসার পথে সন্ধ্যা হয়ে গেলে মুসা (আ.) তাঁর পরিবারসহ তুর পাহাড়ের ‘তুয়া' নামক পবিত্র উপত্যকায় তাঁবু স্থাপন করেন। আর সেখানেই তিনি নবুয়তপ্রাপ্ত হন।
ঘ) হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর জীবনেই রয়েছে মানুষের সর্বোত্তম আদর্শ। জীবনের অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় নিয়ম-নীতিকে আদর্শ বলা হয়। হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর মধ্যে মানবজাতির জন্য সব অনুসরণীয় বৈশিষ্ট্য
বিদ্যমান ছিল। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও অর্থনৈতিক সব দিক দিয়েই তিনি আমাদের কাছে আদর্শ। উদ্দীপকের সর্বশেষ উক্তিটিতে এ বিষয়টির সমর্থন রয়েছে । উদ্দীপকের জনাব আরিফুল ইসলাম হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর মক্কা থেকে বিতাড়িত হয়ে মদিনায় আদর্শ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করেন। তাছাড়া মহানবি (স.) মানবজাতির জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ। এ কথার সত্যতা আমরা আল্লাহর ঘােষণার মধ্যেই পাই। তিনি বলেন, “ নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসুলের জীবনে রয়েছে তােমাদের জন্য উত্তম আদর্শ।' (সূরা আল-আহ্যাব, আয়াত-২১) হযরত মুহাম্মদ (স.) ধনী, দরিদ্র, ইয়াতিম, অসহায়, রাজাপ্রজা সবার প্রতি ছিলেন উদার, সহানুভূতিশীল, যা সবার জন্য অনুকরণীয়। শিশুদের প্রতি তিনি ছিলেন কোমল এবং স্নেহপ্রবণ। ক্রীতদাস থেকে শুরু করে নারী-পুরুষ, আত্মীয়-অনাত্মীয় এমনকি জীবজন্তুর প্রতিও দয়া প্রদর্শন করতে তিনি উৎসাহ দিয়েছেন। তিনি বলেন, জমিনে বসবাসকারীদের প্রতি দয়া কর, তাহলে আসমানবাসীরাও তােমাদের প্রতি
দয়া করবে।' (সুনানে তিরমিজি) আদর্শ।
পরিশেষে বলা যায়, ক্ষমাশীলতা, উদারতা, সত্যবাদিতা, সংযম, ন্যায়পরায়ণতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবােধ, মানবিকতা, অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি, দানশীলতা, পরােপকারিতা, দেশপ্রেম ও ওয়াদা পালনসহ অনুসরণীয় গুণাগুণ রাসুল (স.)-এর জীবনে বিদ্যমান ছিল। এ কারণে তিনিই আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ আর্দশ।
২ নং প্রশ্ন
জামিলা রসুলপুর গ্রামে ব উদ্যোগে গ্রামে অশিক্ষিত মহিলাদের মাঝে শিক্ষার আলাে বিতরণের। গমের নানাবিধ অভাব-অনটনের মাঝেও আল্লাহর প্রতি তার বিশ্বাস জন্য বাড়িতে একটি নারী শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। অন্যদিকে রহিমা ছিল অটল ও অবিচল। তিনি সর্বাবস্থায় আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন পাঠ-৫ ও ৭ (৮ বাে, ১৯/ করেন।
ক, উমাইয়া সাধু কে?
খ. মদিনা সনদ কেন প্রণয়ন করা হয়েছিল? বুঝিয়ে লেখ্যে । সাথে মিল
গ. জামিলা বেগমের চরিত্রে রাসূল (স.)-এর যে স্ত্রীর রয়েছে তার শিক্ষা তােমার বাস্তবজীবনে কীভাবে প্রতিফলন ঘটাবে? আলােচনা করাে।
ঘ. রহিমা বেগমের বিশ্বাস যে মহীয়সী নারীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ “তিনি সকল নারীর অনুকরণীয় আদর্শ- পর্যালােচনা করো।
২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক) উমাইয়া সাধু হলেন হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র.)।
খ) সকল সম্প্রদায়ের মাঝে শান্তি ও সম্প্রীতি স্থাপনের জন্য মহানবি (স.) মদিনার সনদ প্রণয়ন করেন।
মহানবি (স.) গােত্রদ্বন্দ্ব দূর করে শান্তি ও সম্প্রীতি স্থাপন করার জন্য মুসলমান, ইহুদি ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মাঝে একটি চুক্তি সম্পাদন করেন। এ চুক্তিটি মদিনা সনদ নামে পরিচিত। এ সনদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি স্থাপন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।
গ) জামিলা বেগমের চরিত্রে রাসুল (স.)-এর সর্বকনিষ্ঠা স্ত্রী হ্যরত আয়েশা (রা.)-এর মিল রয়েছে, উন্নত চরিত্র গঠন ও জ্ঞান সাধনায় যিনি অনুসরণীয় আদর্শ।
হযরত আয়েশা (রা.) ছিলেন অতুলনীয় আদর্শ ও প্রখর মেধার অধিকারিণী। তিনি শিশুকাল থেকেই শিক্ষাগ্রহণ শুরু করেন। ফলে তিনি বিচক্ষণ, বুদ্ধিমতী, অসাধারণ জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবান হতে পেরেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি জ্ঞান বিতরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। যা জামিলা বেগমের কর্মকাণ্ডেও পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকের জামিলা বেগম নারী শিক্ষা বিস্তারে একটি নারী শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। তার এ চরিত্রটি হযরত আয়েশা (রা.)-এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। প্রকৃতপক্ষে চারিত্রিক গুণাবলি অর্জনে আয়েশা (রা.) নারী জাতির জন্য সর্বোত্তম অনুকরণীয় আদর্শ। কেননা শিক্ষায় যেমন তার পাণ্ডিত্য ছিল প্রখর, তেমনি চারিত্রিক গুণাবলি অর্জনেও তিনি ছিলেন সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারিণী। সুতরাং উত্তম চরিত্র গঠন এবং পাণ্ডিত্য অর্জন করে হযরত আয়েশা (রা.)-এর আদর্শ বাস্তবজীবনে প্রয়ােগ করা সম্ভব হয়।
| | | | |
ঘ রহিমা বেগমের বিশ্বাস মহীয়সী নারী হযরত রাবেয়া বসরি (র.)-এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, যিনি সকল নারীর জন্য অনুকরণীয় আদর্শ।
ইসলামের ইতিহাসে নারীদের মধ্যে যারা মহান আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি অর্জন করেছেন হযরত রাবেয়া বসরি (র.) তাদের অন্যতম। এ মহান নারী কখনােই পরমুখাপেক্ষী হতেন না। বরং শত দুঃখ-কষ্টেও আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপন করেছেন। যা রহিমা বেগমের চরিত্রেও ফুটে উঠেছে।
| উদ্দীপকের রহিমা বেগম শত অভাব-অনটনের মাঝেও আল্লাহর ওপর জ্ঞাসা রাখেন। তার এ চরিত্রটি হযরত রাবেয়া বসরি (র.)-এর চরিত্রেরই অনুরূপ। নারী জাতির জন্য তিনি অনুকরণীয় আদর্শ। হযরত রাবেয়া বসরি (র.)-এর জীবন থেকে নারী জাতি সহজ-সরল জীবনযাপন করার শিক্ষা নিতে পারে। এ মহীয়সী নারীর জীবন থেকে বর্তমান নারী জাতি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনকে জীবনের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। তারা উচ্চাভিলাস পরিহার করে তার মতাে সহজ-সরল ও অনাড়ম্বর জীবনযাপনের শিক্ষা নিতে পারে। তাছাড়া তার জীবন থেকে সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপর আস্থা রেখে সকল প্রকার দুঃখ-কষ্ট সহ্য করার মানসিকতা গড়ে তােলা যায়।
পরিশেষে বলা যায়, হযরত রাবেয়া বসরি (র.) হলেন নারীদের জন্য অনুসরণীয় আদর্শ। তাই আত্মনির্ভরশীলতা ও উত্তম চরিত্র গঠনে প্রত্যেক নারীর উচিত তার আদর্শ অনুসরণ করা.
