দশম শ্রেণি ইসলাম ধর্ম : ৪র্থ অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন ও সমাধান ২০২১
নবম-দশম
১নং সৃজনশীল প্রশ্ন
একটি ধর্মীয় আলােচনা অনুষ্ঠানে ড. সােহান সাহেব তার ৰকৃতায় বলেন, তাকওয়া একটি মহৎ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। তাকওয়া | মানুষকে মানবিক ও নৈতিক গুণে উদ্বুদ্ধ করে। ফলে তাকওয়া অনুসারী | ব্যক্তি কোনাে অন্যায় করতে পারে না। কাজলপুর গ্রামের ফারদিন গহেব | সর্বদা এলাকার মানুষের খেদমতে নিয়ােজিত থাকেন। তার বন্ধু আমির। একবার ঋণগ্রস্ত হলে ফারদিন সাহেব তার ঋণগুলাে পরিশােধ করে। দল। গ্রামের ক্ষুধার্ত মানুষকে খাবারের ব্যবস্থাও তিনি
ইং-১৩০ ১৩৮ (গ্রাম কলেজিয়েট স্কুল]
ক, শালীনতা কাকে বলে?
খ) কর্মবিমুখতা মানবজীবনে অভিশাপম্বরূপ— ব্যাখ্যা করাে।
গ) শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠায় ড. সােহান সাহেবের আলােচিত বিষয়টি কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে। ব্যাখ্যা করাে।
ঘ, ফারদিন সাহেবের কাজটি চিহ্নিতপূর্বক এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করাে।
১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক) কথা-বার্তা, আচার-আচরণ ও চলাফেরায় ভদ্র, সভ্য ও মার্জিত হওয়াকেই শালীনতা বলে।
খ)কর্মবিমুখতা মানবজীবনে অভিশাপস্বরূপ।
কর্মবিমুখতার ফলে মানুষের মেধা, শক্তি ও সময়ের অপচয় হয়। | কর্মবিমুখ বেকারকে কেউ ভালােবাসে না। কেউ তার সাথে বন্ধুত্ব ও আত্মীয়তার সম্পর্ক করতে চায় না। এটা মানুষের মধ্যে মারাত্মক হতাশা তৈরি করে। ফলে মানুষ একসময় আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। মূলত কর্মবিমুখতা মানুষকে তিলে তিলে ধ্বংস করে দেয়, তাই কর্মবিমুখতা মানবজীবনে অভিশাপস্বরূপ।
গ) ড. সােহান সাহেবের আলােচিত তাকওয়ার বিষয়টি শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আল্লাহ তায়ালার ভয়ে যাবতীয় অন্যায়, অত্যাচার ও পাপকাজ থেকে বিরত থাকাকে তাকওয়া বলে। অর্থাৎ সকল প্রকার পাপাচার থেকে নিজেকে রক্ষা করা ও কুরআন-সুন্নাহ মােতাবেক জীবন পরিচালনা করাই তাকওয়া। শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে এর গুরুত্ব অনেক বেশি, যেটি সােহান সাহেবের আচরণে পরিলক্ষিত হয় ।
উদ্দীপকের সােহান সাহেব চরিত্র গঠনে তাকওয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে | আলােচনা করেন। বস্তুত মানুষের চরিত্র ভালাে হলে সমাজে শান্তির | সুবাতাস বয়ে যায়। কারণ মুত্তাকি ব্যক্তি কোনাে অন্যায় ও অনৈতিক কাজ করতে পারেন না। কোনােরূপ অশ্লীল ও অশালীন কথা, কাজ ও চিন্তা-ভাবনা করতে পারেন না। মুত্তাকি ব্যক্তি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, | পাপ যত গােপনেই করা হােক না কেন, আল্লাহ তা দেখেন ও জানেন। | কোনােভাবেই আল্লাহ তায়ালাকে ফাঁকি দেওয়া সম্ভব নয়। তাকওয়া | মানুষের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে এবং সচ্চরিত্রবান হিসেবে গড়ে তােলে। ফলে মুত্তাকিগণ সৎ ও সুন্দর গুণ অনুশীলনে অনুপ্রাণিত হয়। | অন্যদিকে যার মধ্যে তাকওয়া নেই, সে নিষ্ঠাবান ও সকর্মশীল হতে পারে না। সে নানা রকম অন্যায় অত্যাচারে লিপ্ত থাকে। নৈতিক ও মানবিক আদর্শের পরােয়া করে না। ফলে তার দ্বারা সমাজে অনৈতিকতা। ও অপরাধের প্রসার ঘটে। সুতরাং পরিশেষে বলা যায়, ড, সােহান সাহেবের আলােচিত তাকওয়ার বিষয়টি অধিক তাৎপর্যবহ।
ঘ) ফারদিন সাহেবের কাজটি মানবসেবার অন্তর্ভুক্ত, যার গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম।
মানবসেবা বলতে মানুষের সেবা, পরিচর্যা, যত্ন নেওয়া, সাহায্য-সহযােগিতা স্থা ইত্যাদিকে বােঝায়। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের সেবা মানবসেবার আওতাভুক্ত। যারা মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়ােজিত রাখেন মহান আল্লাহ তাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করেন। জনাব ফারদিন সাহেবের কার্যাবলিতে এ বিশেষ দিকটিই লক্ষণীয়।
উদ্দীপকের ফারদিন সাহেব সর্বদা এলাকার মানুষের খেদমতে নিয়ােজিত থাকেন। তার বন্ধু জমির ঋণগ্রস্ত হলে ফারদিন তার ঋণগুলাে পরিশােধ করে দেন। আবার গ্রামের ক্ষুধার্থ মানুষকে খাবারের ব্যবস্থাও তিনি করেন। তার এরূপ কর্মকাণ্ড মানবসেবার অন্তর্ভুক্ত। মূলত তিনি তার
(স) বলেছেন, 'তোমরা পৃথিবীবাসীর ওপর অনুগ্রহ করাে, তাহলে। কাজের মাধ্যমে আল্লাহ ও রাসূল (স)-এর নির্দেশ পালন করেছেন। রাসুল আসমানে যিনি আছেন তিনি তােমাদের প্রতি দয়া করবেন।' (তিরমিযি)। মানবসেবা মানুষের উন্নত চরিত্রের পরিচায়ক। যে ব্যক্তি মানুষের সেব করেন তিনি মহাপ্রাণ । সমাজে তিনি বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। আল্লাহ তায়ালাও এরূপ ব্যক্তিকে ভালোবাসেন। এছাড়া সকল মানুষের সাহায্যমানুষের প্রতি দয়া করেনা, আল্লাহ তার প্রতিও দয়া করেন না।' (বুখারি) সহযােগিতা করা রাসুলুল্লাহ (স)-এর আদর্শ। রাসুল (স) বলেন, “যে ব্যক্তি আবার মানবসেবা করা মুমিনের অন্যতম গুণ। মুমিন ব্যক্তি সর্বদাই অন্য মানুষের খেদমতে নিয়ােজিত থাকেন। মহানবি (স) এ সম্পর্কে নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, “তােমরা ক্ষুধার্তকে খাদ্য দাও, রুগ্ন ব্যক্তির সেবা , | বন্দীকে মুক্ত কর এবং ঋণগ্রস্তকে ঋণমুক্ত কর।' (বুখারি) | পরিশেষে বলা যায় যে, মানবসেবার প্রতিদান সীমাহীন। আল্লাহ
তায়ালা শেষ বিচারের দিন মানুষের সেবাকারীকে প্রভূত পুরস্কার ও নিয়ামত দান করবেন। তাই মানবসেবার গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম।
রাসুল (স) বলেন
এক: লজ্জাশীলতা ইমানের একটি শাখা ।
দুই: অশ্লীলতা যেকোনাে জিনিসকে খারাপ করে এবং লজ্জাশীলতা যেকোনাে জিনিসকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে। পাঠ-৫ কাজ, পাঠ্যবই পৃষ্ঠা-১৩৪
র্জিলা স্কুল
ক. আখলাক শব্দটি কোন শব্দটির বহুবচন?
খ. মিথ্যা মানুষকে ধ্বংস করে'- ব্যাখ্যা করাে।
গ. হাদিস দুটি ব্যক্তি জীবনে কেমন প্রভাব ফেলতে পারে বলে তুমি মনে কর? ব্যাখ্যা করাে।
ঘ. সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে হাদিস দুটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য বর্ণনা করাে।
২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক) আখলাক শব্দটি খুলুকুন’ শব্দের বহুবচন।
খ) মিথ্যা সকল পাপের মূল হওয়ায় এটি মানুষকে ধ্বংস করে।
মিথ্যা বলা মহাপাপ। এটির কারণে মানুষের নীতি-নৈতিকতা বলতে কিছুই থাকে না। ফলে মিথ্যাবাদী একটির পর একটি অন্যায় কাজে জড়িয়ে পড়ে। মিথ্যা ধীরে ধীরে ব্যক্তির সকল সদগুণ নষ্ট করে ধ্বংসের দ্বারা,, প্রান্তে নিয়ে যায়। এজন্য বলা হয়, সত্যবাদিতা মুক্তি দেয়, আর মিথ্যা ধ্বংস ডেকে আনে।।
গ) শালীনতা সম্পর্কিত হাদিস দুটি মানবজীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
ইসলাম মানুষকে নম্র, ভদ্র ও শালীন হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। কেননা অশ্লীল ও অশালীন কাজকর্ম মানুষের মানবিকতা ও নৈতিক মূল্যবোধ বিনষ্ট করে দেয়। মানুষ মনুষ্যত্ব হারিয়ে পশুত্বের অভ্যাস গ্রহণ করে ! ফলে সমাজে অনাচার, ব্যভিচার, অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে। এজন্য ইসলামে পর্দা রক্ষা ও শালীনতা বজায় রাখার প্রতি জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে, যা উদ্দীপকে উল্লেখিত হাদিস দুটিতেও রয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রথম হাদিসটি হলাে— ‘লজ্জাশীলতা ইমানের একটি শাখা। আর দ্বিতীয়টি হলাে— ‘অশ্লীলতা যেকোনাে জিনিসকে খারাপ করে এবং লজ্জাশীলতা যেকোনাে জিনিসকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে। হাদিস দুটি মানবজীবনে কার্যকর ভূমিকা রাখে। পূত-পবিত্রতা ও শালীনতার অন্যতম | বিষয় লজ্জাশীলতা। এটি মানুষকে শালীন হতে সাহায্য করে। এর ফলে মানুষ পরকালীন সফলতা লাভ করবে। সমাজে যদি লজ্জাশীলতার প্রসার | ঘটে তাহলে নারী, পুরুষ সকলেই অশ্লীল ও নােংরা বিষয় থেকে নিজেকে রক্ষা করে সৌন্দর্যমণ্ডিত হতে পারবে।
ঘ) সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে শালীনতা সম্পর্কিত হাদিস দুটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম।
শালীনতা অর্থ সুন্দর শােভন ও মার্জিত হওয়া। কথা-বার্তা, আচার-আচরণ | শালীনতার বিপরীত অবস্থা হলাে অশ্লীলতা। অশ্লীলতা সমাজে অনাচার, ও চলাফেরায় ভদ্র, সভ্য ও মার্জিত হওয়াকেই শালীনতা বলা হয়। ব্যভিচার, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সমাজকে কলুষিত করে। কিন্তু শালীনতা সমাজকে করে মার্জিত ও সুশৃঙ্খল ।
