অষ্টম শ্রেণি বিজ্ঞান: ৬ষ্ঠ অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন ও সমাধান ২০২১
বিজ্ঞান প্রশ্ন ও উওরঃ
১নং সৃজনশীল প্রশ্ন
প্রশ্ন ১ | X, Y, Z তিনটি মৌল যাদের পারমাণবিক সংখ্যা 3, 17 এবং 18
পাঠ৯-১১, ১২ ও ১৩মি বাে ২০১৯/
ক, আইসােটোপ কাকে বলে? ১
খ. ম্যাগনেসিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা ১২ বলতে কী বােঝ? ব্যাখ্যা করাে। ২
গ. X ও Y এর মধ্যে বন্ধন গঠন প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করাে।
ঘ)X, Y ও Z এর ইলেকট্রন বিন্যাসের মধ্যে কোনটি অধিক স্থিতিশীল? আলােচনা করাে।
১ নং প্রশ্নের উত্তর
ক কোনাে মৌলের ভিন্ন ধরনের পরমাণু যাদের প্রােটন বা পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে ঐ মৌলের আইসােটোপ বলে।
খ কোনাে মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে বিদ্যমান প্রােটন সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বলে। পারমাণবিক সংখ্যার সাহায্যে মৌলের প্রােটন সংখ্যা ও ইলেকট্রন সংখ্যা জানা যায়। ম্যাগনেসিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা ১২ বলতে বােঝায় ম্যাগনেসিয়ামের একটি পরমাণুতে ১২টি প্রােটন রয়েছে। একটি পরমাণুতে যেহেতু প্রােটন আর ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান সেহেতু ম্যাগনেসিয়ামের একটি পরমাণুতে ১২টি ইলেকট্রন রয়েছে।
গ। X ও Y নং মৌল দুটি হলাে যথাক্রমে Li (লিথিয়াম) ও Ci (ক্লোরিন)।
ক্লোরিনের ইলেকট্রন বিন্যাস হতে দেখা যায় এর প্রথম শক্তিস্তরে ২টি, দ্বিতীয় শক্তিস্তরে ৮টি এবং তৃতীয় শক্তিস্তরে ৭টি ইলেকট্রন থাকে। তৃতীয় শক্তিস্তরে ৭টি ইলেকট্রন থাকায় এটি স্থিতিশীল নয়। আবার লিথিয়াম পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস ২, ১। এর সর্ববহিঃস্থ স্তরে ১টি ইলেকট্রন থাকায় এটিও স্থিতিশীল নয় । স্থিতিশীল অবস্থা অর্জনের জন্য উভয়ের বাইরের স্তরে ৮টি ইলেকট্রন দরকার। এক্ষেত্রে লিথিয়াম | পরমাণু তার সর্ববহিঃস্ব স্তরের একমাত্র ইলেকট্রনটি ক্লোরিনকে দান করলে উভয় মৌলই স্থিতিশীল অবস্থা প্রাপ্ত হবে।
Li - Lit te Cl + e® C
Li + C1 —— Li*C1–71, Lici Li (৩) →২, ১ C1 (১৭) →২, ৮, ৭ Ar (১৮) →২, ৮, ৮
দেখা যাচ্ছে, লিথিয়াম পরমাণু একটি ইলেকট্রন দান করে ধনাত্মক আয়নে এবং ক্লোরিন পরমাণু লিথিয়ামের দান করা ইলেকট্রনটি গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়নে পরিণত হয়েছে। ফলে তাদের মধ্যে এক প্রকার আকর্ষণ বল কাজ করে এবং একে অন্যের সাথে বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে লিথিয়াম ক্লোরাইড গঠন করে ।
ঘ) উদ্দীপকে X, Y ও Z মৌল তিনটির পারমাণবিক সংখ্যা দেওয়া আছে ৩, ১৭ এবং ১৮। সুতরাং মৌল তিনটি যথাক্রমে লিথিয়াম (Li), ক্লোরিন (Cl) এবং আর্গন (Ar)। এদের ইলেকট্রন বিন্যাস
কোনাে পরমাণুর সর্বশেষ কক্ষপথে যে কয়টি ইলেকট্রন থাকতে পারে, ঠিক সেই কয়টি ইলেকট্রন যদি ঐ শক্তিস্তরে থাকে তাহলে সেই কক্ষপথ পূর্ণ থাকে। উক্ত পরমাণু তখন স্থিতিশীল হয়।
লিথিয়ামের সর্বশেষ কক্ষপথে একটি ইলেকট্রন থাকায় এটি অষ্টক পূর্ণ নয়। কারণ, দ্বিতীয় কক্ষপথে সর্বোচ্চ ৮টি ইলেকট্রন থাকতে পারে। তাই এটি স্থিতিশীলও নয় ।
ক্লোরিনের সর্বশেষ কক্ষপথে ৭টি ইলেকট্রন রয়েছে। সুতরাং ক্লোরিনের সর্বশেষ কক্ষপথও অষ্টক পূর্ণ না হওয়ায় এটিও স্থিতিশীল নয়। আর্গনের সর্বশেষ কক্ষপথে ৮টি ইলেকট্রন রয়েছে। অষ্টক পূর্ণ থাকায় এটি বন্ধনে আবদ্ধ হয় না এবং স্থিতিশীল ।
সুতরাং X, Y ও Z এর ইলেকট্রন বিন্যাসের মধ্যে z অর্থাৎ আর্গন অধিক স্থিতিশীল ।
২নং সৃজনশীল প্রশ্ন
প্রশ্ন 2 পরমাণু ইলেকট্রন, প্রােটন ও নিউট্রনের সমন্বয়ে গঠিত। এমন অনেক মৌল বা যৌগ আছে যাদের পরমাণুতে ইলেকট্রন ও প্রােটন সংখ্যা সমান থাকলেও ভর সংখ্যায় ভিন্ন। অপরদিকে কোনাে মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ১১ ও ভরসংখ্যা ২৩।
৮৪-৬ ৭ ৮ : বে ২০১৮
ক, প্রজনন কাকে বলে?
খ. পেনিসিলিয়ামে স্পাের বা অণুবীজ উৎপাদনে বংশ রক্ষা হয়— ব্যাখ্যা করাে।
গ. উদ্দীপকে শেষের মৌলটির নিউট্রন সংখ্যা নির্ণয় করাে। ঘ. উদ্দীপকে প্রথম অংশে বর্ণিত ভিন্ন ভর সংখ্যাবিশিষ্ট মৌলের ব্যবহার অন্যান্য মৌল থেকে আলাদা বিশ্লেষণ করাে।
২ নং প্রশ্নের উত্তর
ক যে জটপ্রক্রিয়ায় জীব তার প্রতিরূপ বা বংশধর সৃষ্টি করে তাকে প্রজনন বা জনন বলে।
খ পেনিসিলিয়াম হলানিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ। এধরনের উদ্ভিদ সাধারণত স্পাের বা অণুবীজ উৎপাদনের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে থাকে।
এসব উদ্ভিদের দেহকোষের কিছু অংশ পরিবর্তিত হয়ে অণুবীজ বা স্পােরবাহী থলি বা অঙ্গ উৎপন্ন করে। এই অঙ্গের ভিতরে উৎপাদিত স্পােরের মাধ্যমেই এদের বংশবৃদ্ধি পায়। পেনিসিলিয়ামেও কনিডিয়া নামক অংশ সৃষ্টি হয় যাতে স্পাের থাকে এবং এর মাধ্যমেই বংশবৃদ্ধি ঘটে।
গ) উদ্দীপকের শেষের মৌলটির পারমাণবিক সংখ্যা ১১ এবং ভর সংখ্যা ২৩।
কোনাে মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা আসলে ঐ মৌলের একটি পরমাণুতে প্রােটনের সংখ্যা। সুতরাং শেষের মৌলটির প্রােটন সংখ্যা ১১।
আবার, কোনাে মৌলের পরমাণুর প্রােটন সংখ্যা + নিউট্রন সংখ্যা = ঐ মৌলের ভর সংখ্যা। অর্থাৎ শেষের মৌলটির নিউট্রন সংখ্যা
= মৌলটির ভরসংখ্যা – মৌলটির প্রােটন সংখ্যা
=২৩ – ১১ = ১২
সুতরাং, শেষের মৌলটির নিউট্রন সংখ্যা = ১২।
ঘ. উদ্দীপকের প্রথম অংশে বর্ণিত ভিন্ন ভর সংখ্যা বিশিষ্ট মৌলসমূহকে বলা হয় আইসােটোপ ।
সাধারণ অন্যান্য মৌল থেকে আইটোপসমূহের ব্যবহার ব্যাপক ও বিস্তৃত। মূল মৌল হতে বৈশিষ্ট্য ভিন্ন হওয়ায় এদেরকে অন্যান্য বহু মৌলের মাঝেও আলাদা করে চেনা যায়। এই বিশেষ গুণের কারণেই বিভিন্ন মৌলের আইসােটোপসমূহ মানবজীবনের নানা ক্ষেত্রে সফলতার সাথে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যেমন—
চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিভিন্ন রােগ নির্ণয়ে ও নিরাময়ে আইসােটোপের ব্যবহার করা হয়। কোনাে ক্ষুদ্র রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হলে রক্তের মাধ্যমে আইসােটোপ পাঠিয়ে তা শনাক্ত করা যায়। একইভাবে ক্যান্সার আক্রান্ত রােগীর কোন কোষ ক্যান্সারে আক্রান্ত, তা আইসােটোপ দিয়ে নির্ণয় করা যায়। আবার ক্যান্সার আক্রান্ত কোষ ধ্বংস করা যায় আইসােটোপের তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ব্যবহার অস্থায়ী আইসােটোপের অনুপাত থেকে বােঝা যায় ফসিলটি কত বছরের পুরানাে। সুতরাং আইসােটোপ সমূহের ব্যবহার অন্যান্য মৌলের থেকে আলাদা।
করে। এছাড়াও তেজস্ক্রিয় রশি ব্যবহার করে ডাক্তারি যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করা হয়। কৃষিক্ষেত্রে : কৃষিক্ষেত্রে পতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে আইসােটোপের তেজস্ক্রিয় রশি ব্যবহার করা হয়। এছাড়া কখন কোন সার কী পরিমাণ ব্যবহার করতে হবে তা জানতে তেজস্ক্রিয় আইসােটোপ ব্যবহার করা হয়। খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণে : ব্যাকটেরিয়াসহ অনেক জীবাণু তেজস্ক্রিয় রশ্মিতে মারা যায়। তাই তেজস্ক্রিয় রশ্মি ব্যবহার করে খাদ্যদ্রব্য বা ফলমূলকে জীবাণুমুক্ত করে সংরক্ষণ করা হয়। ভূ-তাত্ত্বিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা কাজে : কোনাে ফসিলের স্থায়ী ও
শেষ
