জেএসসি বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় সাজেশন ২০২১
আসসালামু আলাইকুম প্রিয় শপথ প্রিয় সকল শিক্ষার্থী বৃন্দরা।কেমন আছো সবাই আশা করি আল্লাহর রহমতে সবাই ভাল আছো। আমিও ভাল আছি আল্লাহর রহমতে। আমরা দুইদিন সমস্যার কারণে আগের পোস্টে বলেছি দুইদিন সমস্যার কারণে আমরা কোন ধরনের কিছু দিতে পারিনি সাইটে।
(জেএসসি বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় সাজেশন ২০২১) প্রতিদিনের মত আমরা একটি করে পোস্ট দেই. কিন্তু এবার থেকে আমরা দুইটি করে পোস্ট দিব আমরা প্রথম পোস্টিং আইসিটি নিয়ে দিয়েছি এবং আজকে আর একটি পোস্ট দিয়েছি সেটা হচ্ছে সমাজ বা বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অষ্টম শ্রেণি.
আমাদের সাথে সব সময় থাকুন।
আজকের টপিক টি শুরু করি।
(জেএসসি বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় সাজেশন ২০২১)
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় সাজেশন
আপনারা এই বিষয গুলো পড়ে অনেক কিছু শিখতে পারবেন। যা পরীক্ষায় আপনাদের কাজ এ আসবে। আর একটা কথা আমরা এসাইনমেন্টের উওর দেই না। কেন কারন আমরা বা বাকি সাইট গুলো দেখবেন বলা আছে উওর পএটি বাতিল হতে পারে হুবাহু লিখলে। তাই আমরা দেই না।
আর আপনারা অবশ্যই বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয় বেশি বেশি করে পড়বেন। কারণ এগুলো মুখস্ত করতে পারলে আপনারা সব পাবেন আশা করছি। ইনশাআল্লাহ।
প্রশ্ন ও উওর
প্রশ্ন ১)//
দৃশ্যকল্প-১; শ্রাবণী ঢাকার জাতীয় জাদুঘর পরিদর্শন করে বাংলার পুরােনাে ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারণা লাভ করে। এ সময় তার বাবা তাকে বলেন, বাংলার প্রাচীন আমলের এরকম একটি নিদর্শন আছে যা থেকে প্রাচীন বাংলার সাহিত্য সম্পর্কে আমরা জানতে পারি।
দৃশ্যকল্প-২: সালেহা গ্রামে একটি বৈশাখী মেলায় গানের অনুষ্ঠান উপভােগ করে। অনুষ্ঠানটিতে অনেক ধরনের গান গাওয়া হয়। সালেহা জানতে পারে গানগুলাে গ্রামের কৃষক, জেলে, মাঝি-মাল্লাসহ সাধারণ মানুষেরা গেয়ে থাকেন। পাঠ-5
ক, সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ কাকে বলে?
খ. কোন সংস্কৃতি দ্রুত পরিবর্তনশীল? ব্যাখ্যা করাে।
গ. দৃশ্যকল্প-১ এ বাংলা সাহিত্যের কোন বিষয়টির চিত্র ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করাে।
ঘ. দৃশ্যকল্প-২ এর বিষয়টি বাংলার সংগীত শিল্পের সমৃদ্ধতার পরিচয় বহন করে উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উওরঃ
ক)যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংািস্ট ব্যক্তি এবং গােষ্ঠী অন্যের সংস্কৃতি আয়ত্ত করে তাকে সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ বলা হয় ।
খ) বস্তুগত সংস্কৃতি দ্রুত পরিবর্তনশীল।
বকুণত সংস্কৃতি হচ্ছে মানুষ তার জীবনধারণের জন্য যা কিছু তৈরি করে। যেমন- ঘরবাড়ি, তৈজসপত্র, আসবাবপত্র, উৎপাদন হাতিয়ার ইত্যাদি। বস্তুগত সংস্কৃতি যত দ্রুত বদলে যায়, অবস্তুগত সংস্কৃতি বা মানুষের চিন্তা-চেতনা তত দ্রুত বদলাতে পারে না ।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, আমাদের দেশের বিভিন্ন কলকারখানায় অনেক উন্নত প্রযুক্তির মেশিন আনা হলেও অধিকাংশ সময়ই সে মেশিন চালানাের দক্ষ কর্মী পাওয়া যায় না। অর্থাৎ এক্ষেত্রে বস্তুগত সংস্কৃতির গতির সাথে তাল মিলিয়ে অবস্তুগত সংস্কৃতি নিজেকে পাল্টাতে পারেনি।
গ) উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের চিত্র ফুটে উঠেছে।
বাঙালির প্রথম যে সাহিত্যকর্মের সন্ধান পাওয়া যায় তা চর্যাপদ নামে পরিচিত। পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী প্রথম নেপালের রাজদরবার থেকে এগুলাে আবিষ্কার করেন। পরে ভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ গবেষণা করে জানান প্রায় বারশাে বছর আগে বৌদ্ধ সাধকরা এগুলাে লিখেছেন।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ দেখা যায়, শ্রাবণী ঢাকার জাতীয় জাদুঘর পরিদর্শনকালে তার বাবার কাছ থেকে জানতে পারে, প্রাচীন আমলের একটি নিদর্শন রয়েছে যা থেকে বাংলা সাহিত্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় । এটি চর্যাপদকে নির্দেশ করছে। কারণ চর্যাপদ হলাে আদি বাংলা সাহিত্যের নিদর্শন। শাব্দিক অর্থের পাশাপাশি এগুলাের ভাবার্থও রয়েছে। এর পদগুলাে এখন বােঝা কঠিন।
চর্যাগীতির বিখ্যাত রচয়িতাদের মধ্যে ছিলেন লুইপা এবং কাহ্নপা। চর্যাপদে সে সময়ের ধর্ম, সমাজসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে। চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন হওয়ায় দৃশ্যকল্প-১ এ বাংলা সাহিত্যে এ নিদর্শনের কথাই বলা হয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এর বিষয়টি অর্থাৎ লােকসংগীত বাংলা সংগীত শিল্পের সমৃদ্ধতার পরিচয় বহন করে- উক্তিটি যথার্থ ।
বাংলা চিরকালই সংগীতের দেশ। এখানকার কৃষক যেমন হালচাষ করতে করতে গান বেঁধেছে, আবার মাঝি নৌকা বাইতে বাইতেও গান গেয়েছে। সাধারণ মানুষ গানের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক সাধনাও করেছে। উল, ভাটিয়ালি, কীর্তন, মুর্শিদি, পালাগান, বারমাস্যা, ভাওয়াইয়া, গম্ভীরা ইত্যাদি বহু ধরনের আঞ্চলিক লােকসংগীত ছড়িয়ে আছে সারা বাংলা জুড়ে।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এ দেখা যায়, সালেহা গ্রামের বৈশাখি মেলায় অনেক ধরনের গান শােনে। এগুলাে কৃষক, জেলে, মাঝিমাল্লাসহ সাধারণ মানুষের গান। এখানে বহু ধরনের আঞ্চলিক লােকসংগীতকে নির্দেশ করা হয়েছে, যা বাংলার সমৃদ্ধ সংগীত শিল্পের পরিচয় দেয়। বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে বহু ধরনের লােকসংগীত ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
এসব গানে আধ্যাত্মিক বিষয়, সমাজ, সংস্কৃতি, ইতিহাসঐতিহ্য, আবেগ-অনুভূতি, সামাজিক সমস্যা প্রভৃতি বিভিন্ন বিষয় ফুটে উঠেছে। এগুলাের বাণী যেমন সমৃদ্ধ, সুরও তেমনি বৈচিত্র্যময়। যেমনকীর্তন গান হিন্দু সমাজে পাওয়া হয়, আবার বাউল ও ভাটিয়ালি গান হিন্দু-মুসলমান সকলেই গেয়ে থাকে। বিষয় ও সুরের বৈচিত্রের জন্য এসব লােকগান বাংলাদেশের সংগীত শিল্পকে সমৃদ্ধ করেছে।
অতএব বলা যায়, বাংলার বৈচিত্র্যময় লােকসংগীত এদেশের সংগীত শিল্পের সমৃদ্ধতার চিত্রকেই তুলে ধরে।
প্রশ্ন ২)//
রূপা দীর্ঘদিন মা বাবার সাথে বিদেশে ছিল। সম্প্রতি সে দেশে বেড়াতে এসেছে। রূপা ও তার চাচাত বােনেরা একত্রে নিজ বাসা খুলনা থেকে কুয়াকাটায় সূর্যাস্ত দেখতে যায়। সেখানে বাঁশের তৈরি কিছু সুন্দর সুন্দর কটেজ দেখে সে বিস্মিত হয়। নৌপথে ফিরে আসার সময় মাঝিদের কণ্ঠে ‘মন মাঝি তাের বৈঠা নেরে আমি আর বাইতে পারলাম ' গানটি শুনতে পায় । পঠ-৫/সি, বে, /
ক. সংস্কৃতি কী?
খ. সংস্কৃতির পরিবর্তনশীলতার একটা কারণ ব্যাখ্যা করাে।
গ. রূপার দেখা কটেজটি কোন শিল্পের অন্তর্গত? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের শেষ অংশে যে শিল্পের ইঙ্গিত রয়েছে তা বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে বিশ্লেষণ করো।
প্রশ্নের উত্তরঃ
ক)সংস্কৃতি হলাে সমাজের মানুষের জীবনযাপনের ধারা বা জীবনপ্রণালি ।
খ() সংস্কৃতির পরিবর্তনশীলতার একটা অন্যতম কারণ হলাে সাংস্কৃতিক ব্যাপ্তি।
সংস্কৃতি বহমান। দুটি সমাজের সংস্কৃতি পরস্পরের স্পর্শে আসলে একে অপরকে প্রভাবিত করে। এই প্রক্রিয়া যত দীর্ঘস্থায়ী হয়, সংস্কৃতির আদান-প্রদান তত বেশি হয়। সংস্কৃতির সংমিশ্রণে এই প্রসার লাভ হলাে সাংস্কৃতিক ব্যাপ্তি । বিশ্বায়নের ফলে এবং প্রযুক্তির উন্নতিতে সাংস্কৃতিক ব্যাপ্তি অনেক বেড়ে গেছে।
গি রূপার দেখা কটেজটি দৃশ্যশিল্পের অন্তর্গত।
গ)যেসব শিল্প বা সংস্কৃতির মাধ্যমে বাংলার চিরাচরিত ঐতিহ্য, নকশা, স্থাপত্য প্রভৃতি ফুটিয়ে তােলা হয় এবং বাংলার মানুষের দক্ষতা ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটে, তাই দৃশ্যশিল্প নামে পরিচিত। বাংলার ঐতিহ্যবাহী দৃশ্যশিল্পগুলাে বেশির ভাগই বস্তুগত শিল্প বা সংস্কৃতি হিসেবে পরিচিত। এ শিল্পের মধ্যে রয়েছে- মৃৎশিল্প, তাঁত শিল্প, নকশাশিল্প, স্থাপত্যশিল্প, কারুশিল্প, বাঁশ-বেতের কাজ, নকশিকাঁথা, শঙ্খের কাজ, মসলিন ইত্যাদি।
উদ্দীপকের কটেজটি দৃশ্যশিল্পের অন্তর্ভুক্ত। কারণ, কটেজটি বেড়ার তৈরি এবং এতে বিভিন্ন স্থানীয় উপাদান ব্যবহৃত হয়েছে। অন্যদিকে বাঁশবেত ও মাটির তৈরি এসব জিনিসপত্র হলাে দৃশ্যশিল্প। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত কটেজটিও দৃশ্যশিল্প।
ঘ. উদ্দীপকের শেষ অংশে যে শিল্পের ইজিত রয়েছে তা সঙ্গীত শিল্প যা বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে।
বাংলা চিরকালই সঙ্গীতের দেশ। এখানকার মাঠে প্রান্তরে কৃষক হাল চাষ করতে করতে যেমন গান বেঁধেছে, তেমনি নদী ও খালে নৌকা বাইতে বাইতে মাঝিও গলা ছেড়ে গান গেয়েছে। আবার সাধারণ মানুষ তাদের নিজেদের মতাে করে গানের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক সাধনা করেছে। এ সকল গানের মাধ্যমে এ দেশের মানুষ তাদের মনের আকাঙ্ক্ষা, ভালােবাসা, চিন্তাভাবনা, আদর্শ ফুটিয়ে তােলে। যার মাধ্যমে আমাদের সংস্কৃতির সুস্পষ্ট পরিচয় পাওয়া যায়। কীর্তন গানের মাধ্যমে হিন্দু ধর্মের নানা দিকের পরিচয় পাওয়া যায়। মুর্শিদি, পালাগান, বারমাস্যা, গম্ভীরা ইত্যাদি নানা ধরনের আঞ্চলিক গান আমাদের সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক ফুটিয়ে তােলে।
উদ্দীপকে রূপারা কুয়াকাটার নৌপথে ফিরে আসার সময় মাঝিদের কণ্ঠে ‘মন মাঝি তাের বৈঠা নেরে আমি আর বাইতে পারলাম না' গানটি শুনতে পায়। এই গানটি সঙ্গীত শিল্পকে নির্দেশ করে। আমাদের আদি সঙ্গীত চর্যাপদ ও বৈষ্ণব পদাবলীর পাশাপাশি মুর্শিদি, পালাগান, বারমাস্যা, ভাওয়াইয়া, গম্ভীরা ইত্যাদি গান আমাদের সঙ্গীত শিল্প তথা সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে।
পরিশেষে বলা যায়, সঙ্গীত শিল্প সংস্কৃতির একটা অংশ। বাংলার সঙ্গীত অনুপে প্রশ্ন নম্বর শিল্প সমৃদ্ধ হওয়ায় তা বাংলাদেশের ৮, ১২, ১৯ সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে।
শেষ
আজকের টপিক টি এখানে শেষ করছি আমি। সবাই ভালো থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।
