| প্রশ্ন 1 জিহান তার শরীরে আতর ব্যবহার করায় সহপাঠীরা তার। ঘ্রাণ পায়। অপরদিকে সিয়াম দেখতে পায় শুকনাে ও কুচকানাে। কিসমিসগুলাে পানিতে ভিজিয়ে রাখলে স্ফীত হয়ে | কে ০১৮. 8 বে ২০১৮/
ক, প্রস্বেদন কাকে বলে?
খ. শুকনাে কাঠ পানিগ্রাহী কেন?
গ, সহপাঠীদের ঘাণ পাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করাে।
ঘ. উদ্দীপকে সংঘটিত প্রক্রিয়াগুলাে উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ করাে।
প্রশ্নের উত্তরঃ
ক) যে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের দেহের অভ্যন্তর থেকে পাতার মাধ্যমে বাম্পাকারে পানির নির্গমন হয় তাকে প্রস্বেদন বলে ।
খ) কলয়েডধর্মী হওয়ায় শুকনাে কাঠ পানিগ্রাহী।
শুকনাে কাঠে কলয়েডধর্মী পদার্থ যেমন স্টার্চ, সেলুলােজ জিলেটিন ইত্যাদি বিদ্যমান। এসব পদার্থ তাদের কলয়েডধর্মী গুণের জন্য পানি শােষণ করতে সক্ষম। এজন্যই শুকনাে কাঠ পানিগ্রাহী হয়ে থাকে।
গ) উদ্দীপকে জিহানের সহপাঠীরা ব্যাপন প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আতরের ঘ্রাণ পায় ।
কোনাে পদার্থের অণুগুলাের অধিক ঘন স্থান থেকে কম ঘন স্থানে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা হচ্ছে ব্যাপন।
আমরা জানি, সকল পদার্থই অনেকগুলাে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অণু দিয়ে তৈরি। এ অণুগুলাে সর্বদা চলমান বা গতিশীল অবস্থায় থাকে। তরল ও গ্যাসীয় পদার্থের ক্ষেত্রে অণুগুলাের চলন দুত হয় এবং ব্যাপন চাপের প্রভাবে বেশি ঘনত্বের স্থান হতে কম ঘনত্বের স্থানে অণুগুলাে ছড়িয়ে পড়ে।
এই প্রক্রিয়া ততক্ষণ চলতে থাকে যতক্ষণ না পর্যন্ত অণুগুলাের ঘনত্ব দুই স্থানে সমান হয়। অণুগুলাের ঘনত্ব একই হওয়ার সাথে সাথে ব্যাপন প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। উদ্দীপকে আতরের অণুগুলাে অধিক ঘনত্ব সম্পন্ন হওয়ায় জিহানের শরীর থেকে চারপাশে কম ঘনত্বযুক্ত স্থানে ছড়িয়ে পড়ে এবং তার সহপাঠীরা আতরের ঘ্রাণ প্রায় ।
ঘ.) উদ্দীপকে সংঘটিত প্রক্রিয়াগুলাে ব্যাপন ও অভিস্রবণ। এ প্রক্রিয়াগুলাে উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
জীবের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজে ব্যাপন প্রক্রিয়া ঘটে। যেমন উদ্ভিদ সালােকসংশ্লেষণের সময় কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে। এই অত্যাবশ্যকে কাজ ব্যাপন দ্বারা সম্ভব হয়। জীবকোষে শ্বসনের সময় গ্লুকোজ জারণের জন্য অক্সিজেন ব্যবহৃত হয়।
ব্যাপন ক্রিয়ার জন্য কোষে অক্সিজেন প্রবেশ করে এবং কার্বন ডাই অক্সাইড বের হয়ে যায়। উদ্ভিদ দেহে শােষিত পানি বাম্পাকারে প্রস্বেদনের মাধ্যমে দেহ থেকে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় বের করে দেয়। প্রাণীদের শ্বসনের সময় অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের আদান-প্রদান ও রক্ত থেকে পুষ্টি উপাদান, অক্সিজেন প্রভৃতি লসিকায় বহন ও লসিকা থেকে কোষে
পরিবহন ব্যাপন দ্বারা সম্পন্ন হয়। কোষের মধ্যে বিভিন্ন জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়াগুলােকে সচল রাখার জন্য অস্রিবণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ প্রক্রিয়ার দ্বারা উদ্ভিদ এক কোষী মূলরােম দিয়ে মাটি থেকে পানি ও খনিজ লবণ শােষণ করে। ফলে কোষের রসস্ফীতি ঘটে যা কান্ড ও পাতাকে সতেজ রাখে। তাছাড়া অনুরূপ প্রশ্ন নম্বর
প্রাণীর অন্ত্রে খাদ্য শশাষিত হতে ১, ৪, ৬
অস্রিবণ প্রক্রিয়া সাহায্য করে।
2) কিশমিশ কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখলে শীত হয়ে ওঠে এবং পানি মিষ্টি হয়ে যায়। স্থীত কিশমিশ ঘন চিনির দুলে ডুবিয়ে রাখলে আবার সংকুচিত হয়।
৮ ও ৪ তে ক্ষমা পাথালি লয়, চোলা
ক, অভেদ্য পর্দা কী?
খ) ইমবাইবিশন বলতে কী বােঝ।
গ, কিশমিশের স্ফীত ও সংকুচিত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করাে?
ঘ, উপরের বর্ণিত প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদে কীভাবে ব্যবহৃত হয়? ব্যাখ্যা করাে।
প্রশ্নের উত্তরঃ
ক) যে পর্দা দিয়ে দ্রাবক বা দ্রাব কোনাে পদার্থের অণুই চলাচল করতে পারে না তাই অভেদ্য পর্দা।
খ) কলয়েডধর্মী পদার্থের নানা ধরনের তরল পদার্থ শােষণের বিশেষ | প্রক্রিয়াকে ইমবাইবিশন বলে। উদ্ভিদদেহে স্টার্চ, সেলুলােজ, জিলেটিন ইত্যাদি কলয়েডধর্মী পদার্থ বিদ্যমান। এসব পদার্থ তাদের কলয়েডধর্মী গুণের কারণে পানি শােষণ করতে সক্ষম। অঙ্কুরােদগমের সময় শুকনা বীজ যে পরিমাণ পানি শােষণ করে তার অধিকাংশই ইমবাইবিশন প্রক্রিয়ায় শােষণ করে থাকে।
গ) উদ্দীপকে কিশমিশগুলাে পানিতে ভেজানাের পর ফুলে ওঠে। অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় পানি শােষণ কিশমিশগুলােকে ফুলে উঠতে সাহায্য করে।
সাধারণত শুকনা কিশমিশগুলাের ভিতরে শর্করার একটি গাঢ় দ্রবণ অর্ধভেদ্য পর্দা দ্বারা পানি থেকে পৃথক হয়ে থাকে। ফলে শুধু পানির অণুর ঘনত্ব কম হওয়ায় কিশমিশগুলাের অভ্যন্তরে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করতে পারে, কিন্তু শর্করা অণু একই রকমের পর্দা ভেদ করে বাইরে আসতে পারে না।
তাই অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় শুকনা কিশমিশগুলাের অর্ধভেদ্য পর্দা ভেদ করে পানি ভেতরে প্রবেশ করে। এ কারণে কিশমিশ ফুলে ওঠে।
আবার স্কীত কিশমিশগুলাে ঘন চিনির দ্রবণে ডুবিয়ে রাখলে ঠিক একই প্রক্রিয়ায় অর্থাৎ অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় কিশমিশের ভেতরের রস বাইরে বেরিয়ে আসে। ফলে কিশমিশগুলাে পুনরায় কুচকে যায়। যেহেতু চিনির দুৰণ কিশমিশের ভেতরের দুৰণ অপেক্ষা অধিক ঘন তাই সেখানে অস্রিবণ প্রক্রিয়া সংঘটিত হয়।
ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রক্রিয়াটি অভিস্রবণ। এই প্রক্রিয়ায় দ্রাবক কম ঘনত্বের দ্রবণ থেকে অধিক ঘনত্বের দ্রবণের দিকে ব্যাপিত হয়। উদ্ভিদ অভিস্রবণ প্রয়ােজন।
জীবনে অভিস্রবণের গুরুত্ব অপরিসীম। উদ্ভিদ মূল ও মূলরােমের সাহায্যে মাটি থেকে পানি ও খনিজ লবণ পরিশােষণ করে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায়।
অভিস্রবণ প্রক্রিয়া না ঘটলে উদ্ভিদ পানি ও খনিজ লবণ শােষণ করতে পারবে না। আর পানি ও খনিজ লবণ শােষণ করতে না পারলে উদ্ভিদের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলি বন্ধ হয়ে যাবে।
এছাড়া পত্ররন্দ্র খােলা ও বন্ধ হওয়া অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় নিয়ন্ত্রিত হয়। তাই প্রস্বেদনের হার নিয়ন্ত্রণের জন্য উদ্ভিদের
সুতরাং বলা যায়, উদ্ভিদ জীবনের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের জন্য এই প্রক্রিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম।