Jsc বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ২০২১ (jsc Bangladesh and world identity examination) ৮ম শ্রেনির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় সাজেশন

 Jsc বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ২০২১ (jsc Bangladesh and world identity  examination) ৮ম শ্রেনির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়  সাজেশন 

 আসসামুআলাইকুম সব প্রিয় বন্ধুরা। কেমন আছেন সবাই ,আশা করি আল্লাহর নিয়ামতে সবাই ভালো এবং সুস্থ আছেন । প্রতিদিন এর মতো আজ ও আর একটি নতুন পোস্ট নিয়ে এসেছি আমরা। আমাদের এখন ৮ম শ্রেণির সকল বিষয় এর পোস্ট করছি। তাই আজ ৮ম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয় নিয়ে আমরা আলোচনা করবো। আশা করি আজ৷ ো আপনার আমাদের আগের মতো সাপোট করবেন।

আজ আমরা ৮ম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয় এর নিয়ে আলোচনা করবো। আজ আমরা বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এর ৩ টা সৃজনশীল ও তার উওর দিবো। এই ৩ টা সৃজনশীল আমরা ১ম অধ্যায় থেকে দিবো। পরের পোস্ট আমরা বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয় ২য় অধ্যায় এর ৩ টা প্রশ্ন দিবো আমরা। 



Education 

গুরুত্ব অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রাখা পড়াশোনা করব এখানে দেওয়া হয় এডুকেশন। সবসময় দেওয়াই এডুকেশনের ধাপটি  এডুকেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ মানে পড়াশোনা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ এ গুরুত্বপূর্ণ কাজটি আমাদের সবাইকে করতে আমরা ছোট থেকে বড় হওয়া পর্যন্ত সবাই পড়াশোনা করেছি। সেজন্য আমরা প্রত্যেকটি পোস্টে প্রত্যেকটি সব সময় এই বিষয়ে প্রত্যেকটিতেই এডুকেশন দেই। আমরা কোনদিনও কল করব না পড়াশোনা শেষ সময়ে আগে যার যার আমাদের মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে তাই এডুকেশন মিনিট প্যাক।। 

মূল্যায়ন 

আজকের মূল্যায়নের বিষয়গুলো হল আজকে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের প্রথম অধ্যায় 3 ইঞ্চির লিখব এবং উত্তর দিব। a330 সিদ্দিক আপনারা কি কি জানতে হবে না আপনার অনেক কিছু জানতে ও শিখতে হবে পড়াশুনা খালি মুখ ধোয়া কিছু করার না এটা ভাবলে কিনা এটা এটা ভাবলে কিন্তু হবে না পড়াশোনা মুখস্থ করার জিনিস নয় পড়াশোনা হল মানুষ একটি মানুষের মত মানুষ অর্জন করে তার একটি মৌলিক সেজন্য আমরা সবসময় পড়াশোনা কি ভালোবাসো মানুষের মতো মানুষ হতে চেষ্টা করব। যারা ইস্কুলে ফাস্টে থাকায় তারা একই 19 তো মানুষ আমি তো মানুষই দেবে সেটা কিন্তু নয় যারা মধ্যবিত্ত লেভেলেও থেকে তারা যদি মানুষের মতো মানুষ হতে পারে তাহলে তাদের ওটাই বেস্ট। এই তো তোমাদের তৈরি তিনটি দেবো সেটা অবশ্যই মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে খাতায় লিখতে হবে এবং বার বার প্র্যাকটিস করতে হবে। আমাদের স্যার ম্যাডাম সব সময় বলবে আপনারা সবসময় প্র্যাকটিস করেন প্র্যাকটিস করলে আপনার সব সাবজেক্ট ইজি এবং হয়ে যাবে আর সবসময় পড়াশোনা কে আপনি খেলার মত এবং কোন ফ্রি মাইন্ডের পড়বেন তাহলে আপনার মনে থাকবে। 


অনুশীলন 

বিষয়: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় 
অধ্যায়ঃ ১ম (ঔপনিবেশিক যুগ ও বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম
প্রশ্নঃ ৩ টা সৃজনশীল 


ঔপনিবেশিক যুগ ও বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম


১ প্রশ্নঃ

 রাকিব একটি পুরানাে চলচ্চিত্র দেখছিল। চলচ্চিত্রটিতে মূল চরিত্রে যিনি রয়েছেন তার সেনাপতি ও কিছু সংখ্যক প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের কূটবুদ্ধি ও অন্য দেশি বাণিজ্য গােষ্ঠীর সহায়তার কারণে যুদ্ধের ময়দানে তার পরাজয় ঘটে এবং তার ভাগ্যে বিপর্যয় নেমে আসে। যার ফলে বিদেশি বাণিজ্যিক গােষ্ঠী ক্ষমতার মসনদে দীর্ঘদিন ধরে আরােহণ করে থাকে।

ক, ইকলিম কী? 

খ. এ দেশের মানুষের জন্য কোন শাসন ছিলো চরম অভি শাপম্বরূপ ? ব্যাখ্যা করাে।

গ. রাকিবের দেখা চলচ্চিত্রটির সাথে তােমার পাঠ্যপুস্তকের কোন ঐতিহাসিক ঘটনার মিল আছে? ব্যাখ্যা করাে। 

ঘ. উদ্দীপকের অন্য দেশের বাণিজ্যিক গােষ্ঠী বলতে যাদের বােঝানাে হয়েছে তাদের শাসনের প্রভাব বিশ্লেষণ করাে। 8

উওর:
ইকলিম বলতে মুসলিম প্রতিষ্ঠিত প্রদেশ বা বিভাগগুলােকে বােঝায়।



দ্বৈত শাসন ছিল বাংলার সাধারণ মানুষের জন্য চরম অভিশাপম্বরূপ। দ্বৈত শাসনের ফলে রাজ আদায়ের দায়িত্ব পেয়ে ইংরেজ শাসকরা | প্রজাদের ওপর অতিরিক্ত কর আরােপ করে এবং তা আদায়ে প্রচণ্ড চাপ | সৃষ্টি করে। একই সময়ে দেশে পর পর তিন বছর অনাবৃষ্টির ফলে | ১৭৭০ (বাংলা ১১৭৬) সালে নেমে আসে দুর্ভিক্ষের করাল ছায়া । | দুর্ভিক্ষে লাখ লাখ লােক মারা যায়। এ সমস্ত কারণে দ্বৈত শাসনকে বলা ।


 গ. উদ্দীপকে । রাকিব

যুদ্ধের মিল আছে। উল্লেখিত রাকিবের দেখা চলচ্চিত্রের সাথে পলাশির ১৭৫৬

ফলে ঔপনিবেশিক শাসন শুরু হয়। সালে নবাব আলিবর্দি খার মৃত্যুর পর মাত্র ২২ বছরে সিরাজউদ্দৌলা। বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার নবাব হন। সিংহাসনে বসার পর ঘনিষ্ঠজনদের। ষড়যন্ত্র, ইংরেজ শক্তির উত্থান, হামলাকারী বগি, ক্ষমতালােভী বণিক শ্রেণির হস্তক্ষেপ তাকে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়। ফলে ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশির যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলা ইংরেজদের কাছে পরাজিত হয়। উদ্দীপকে

যে পুরানাে চলচ্চিত্র দেখছিল সেখানে চলচ্চিত্রের মূল। চরিত্রে যিনি রয়েছেন তার সেনাপতি ও কিছু সংখ্যক প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের। কূটবুদ্ধি ও অন্য দেশে বাণিজ্য গােষ্ঠীর সহায়তার কারণে যুদ্ধের ময়দানে চলচ্চিত্রের মূল চরিত্রের পরাজয় ঘটে। যেমনটি পলাশির প্রান্তরে নবাব। সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় দেখা যায়। তাই বলা যায়, চলচ্চিত্রটি পলাশির। যুদ্ধকে এবং নবাবের পরাজয়কে কেন্দ্র করে নির্মিত ।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লেখিত অন্য দেশের বাণিজ্যিক গােষ্ঠী বলতে ইংরেজদের বােঝানাে হয়েছে।

ইংরেজ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি এ দেশের শাসন ক্ষমতা লাভের পর থেকেই তাদের শাসন পাকাপােক্ত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়। এ সময় তারা দেশীয়দের মধ্য থেকে ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত একটি অনুগত শ্রেণি তৈরিতে মনােযােগ দেয়। এজন্য তারা মাদ্রাসা ও সংস্কৃত কলেজ তৈরির পাশাপাশি সারাদেশে স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠা করে। এছাড়া দেশ শাসনের জন্য দ্বৈতশাসন পদ্ধতি প্রণয়ন করে। কিন্তু এতে করে এদেশের মানুষের ভাগ্যে নেমে আসে চরম দুর্ভাগ্য। অপরদিকে মুদ্রণযন্ত্র স্থাপনের মাধ্যমে এ দেশের মানুষের সামনে জ্ঞানচর্চার দুয়ার উন্মােচিত হয়। তারা হিন্দু সমাজ থেকে সতীদাহ প্রথা রদ ও বিধবা বিবাহ চালু করতে ভূমিকা রাখে। ভাগ কর এবং শাসন কর নীতি ও বঙ্গভঙ্গ এর প্রবর্তনের মাধ্যমে এ দেশের মানুষকে তারা ঐক্যবদ্ধ হতে বাধা দেয়। স্বাভাবিকভাবেই কোম্পানির এ সমস্ত কার্যক্রম উপমহাদেশে তাদের ক্ষমতা বিস্তারকে সুদৃঢ় করে। এর পাশাপাশি তারা এদেশের মানুষকে নীল চাষে বাধ্য করে যা তাদের বাণিজ্যিক সুফল এনে দেয়। উদ্দীপকের রাকিবের দেখা চলচ্চিত্রে বিদেশি যে বাণিজ্যিক গােষ্ঠীকে দেখা যায়, তারা ইংরেজ বণিক। পরবর্তীতে তারা মসনদ দখল করে বাণিজ্য বিস্তার করে। এর পাশাপাশি শাসন ব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী করতে ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে। যার প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে পরবর্তীতে স্বাধীনতার জন্য বিভিন্ন আন্দোলন করে।

আলােচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকের বাণিজ্যিক গােষ্ঠী তথা ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি এদেশে শাসন দীর্ঘায়িত করতে উপরে বর্ণিত কাজগুলাে সম্পাদন করে যা একই সাথে কোম্পানির আধিপত্য বিস্তারেও ভূমিকা রাখে।

২ প্রশ্নঃ

দৃশ্যপট-১: ‘ক’ অঞ্চলের রাজা অল্পবয়সী ও কম অভিজ্ঞ হওয়ায় তিনি সকলকেই বিশ্বাস করতেন। তার সরলতার সুযােগে নিকট আত্মীয়, দেশীয় ও ভিনদেশি লােক ষড়যন্ত্র করে তাকে হত্যা করে। কিন্তু পরিণামে দেশীয়রা ভিনদেশিদের অধীনস্থ হয়। তারা নিজ স্বার্থে শাসনব্যবস্থা চালু করে।

দৃশ্যপট-২: বিদেশি শক্তি ‘খ’ অঞ্চলকে একটি মাত্র কেন্দ্র হতে শাসন করা কঠিন মনে করে। ঐ অঞ্চলের জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে দীর্ঘদিন অলটিকে শাসন করার উদ্দেশ্যে দুইটি ভাগে বিভক্ত করে।



ক. ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ কাকে বলে?

 খ, বাংলার নবজাগরণে স্যার উইলিয়াম কেরির অবদান ব্যাখ্যা করাে। 

 গ. ‘ক’ অঞ্চলের রাজার পরিণতি বাংলার ঐতিহাসিক কোন ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা করাে। 

ঘ. “দৃশ্যপট-২ এ উল্লিখিত ঘটনাটির অনুরূপ ঘটনার প্রেক্ষিতে সৃষ্ট আন্দোলন ব্রিটিশ বিরােধী আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপ পরিগ্রহ  করে।”- মতামত দাও। 

উওরঃ
ক. ১১৭৬ বঙ্গাব্দে বাংলায় যে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হয়েছিল তাকেইই ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' বলা হয়।

খ বাংলার নবজাগরণে স্যার উইলিয়াম কেরির অবদান অপরিসীম। স্যার উইলিয়াম কেরি নানা সামাজিক কাজের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেছিলেন। তিনি বাংলা ব্যাকরণ রচনা, মুদ্রণযন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সংবাদপত্র প্রকাশ, স্কুল টেক্সট বাের্ড গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজের পথ প্রদর্শন করেছিলেন। মুদ্রণযন্ত্র স্থাপন ও সংবাদপত্র প্রকাশের ফলে বাংলায় জ্ঞানচর্চা ও জাগরণের পথ খুলে যায়। এভাবে বাংলার নবজাগরণে স্যার উইলিয়াম কেরি বিশেষ অবদান রাখেন।

গ। উদ্দীপকের ‘ক’ অঞলের রাজার পরিণতি পলাশির যুদ্ধে বাংলাবিহার-উড়িষ্যার নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যু এবং বাংলায় সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও করুণ মৃত্যু এবং বাংলায় ঔপনিবেশিক শাসন

ঔপনিবেশিক শাসন আরম্ভের ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। নবাব আলিবর্দি খাঁর মৃত্যুর পর তার প্রিয় নাতি সিরাজউদ্দৌলা মাত্র ২২ বছর বয়সে সিংহাসন আরােহণ করেন। কিন্তু উদীয়মান ইংরেজ শক্তি, বর্গিরা, তার বড় খালা ঘসেটি বেগম ও সেনাপতি মীর জাফর আলী খানের মতাে ঘনিষ্ঠজনেরা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে থাকে। এর ফলে পলাশির যুদ্ধে নবাবের পরাজয় ও মৃত্যু এবং ইংরেজদের হাতে বাংলার পতন ঘটে। উদ্দীপকের দৃশ্যপট-১ এ দেখা যায় ‘ক’ অঞ্চলের রাজা অল্পবয়সী ও কম অভিজ্ঞ হওয়ায় এবং সরলতার সুযােগে বিভিন্ন শক্তি ষড়যন্ত্র করে তাকে হত্যা করে। ফলে ভিনদেশিরা নিজ স্বার্থে শাসন ব্যবস্থা চালু করে এবং দেশীয়রা তাদের অধীনস্থ হয়ে পড়ে। এখানে পলাশির যুদ্ধে নবাব  প্রতিষ্ঠার ঘটনা ফুটে উঠেছে। কারণ মাত্র ২২ বছর বয়সী নৰাৰ সিরাজউদ্দৌলা আত্মীয়স্বজন, সেনাপতি ও ইংরেজদের ষড়যন্ত্রের কারণে ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশির প্রান্তরে যুদ্ধে পরাজিত হন। তার বিরুদ্ধে ব্যবসায়িক স্বার্থে বণিক শ্রেণিও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল। নবাবের পরাজয় ও নির্মম মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলার ইতিহাসে প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের যাত্রা শুরু হয়।

ঘ. দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লিখিত ঘটনাটির অনুরূপ অর্থাৎ বঙ্গভঙ্গের প্রেক্ষিতে সৃষ্ট বিভিন্ন আন্দোলন ব্রিটিশ বিরােধী আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপ পরিগ্রহ করে”- উক্তিটি যথার্থ ।

১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ কার্যকর করা হয়। এর পেছনে ইংরেজদের যুক্তি ছিল দেশের উন্নয়ন ও সার্বিক কল্যাণ সাধন। কিন্তু কলকাতাকেন্দ্রিক শিক্ষিত বাঙালিরা এর পক্ষে ছিলেন না। তারা দুই বাংলার মানুষের মধ্যে দূরত্ব বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তাই বঙ্গভঙ্গ কার্যকর করা থেকে বিরত রাখতে হিন্দু নেতারা চাপ প্রয়ােগ করতে থাকে। পাশাপাশি বিভিন্ন আন্দোলন শুরু হয়।

উদ্দীপকের দৃশ্যপট-২ এ দেখা যায়, বিদেশি শক্তি ‘খ’ অঞ্চলকে দীর্ঘদিন শাসন করার উদ্দেশ্যে দুইটি ভাগে ভাগ করে। এতে ঐ অঞলের জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হয়। এটি ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গকে নির্দেশ করছে। বঙ্গভঙ্গের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল। এগুলাে হলোস্বদেশি আন্দোলন, বয়কট আন্দোলন, স্বরাজ এবং সশস্ত্র আন্দোলন। এসব আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এদেশের অধিকাংশ মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম জেগে উঠে এবং তারা ঐক্যবদ্ধ হয়।

ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের পাশাপাশি বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে ঢাকায় ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ নামের একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়। এভাবে বিভিন্ন ধ্যান-ধারণা ও আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মূলত বঙ্গভঙ্গের পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশবিরােধী আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ।

অতএব, বলা যায়, দৃশ্যকল্প-২ এ নির্দেশিত বঙ্গভঙ্গের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন ধ্যান-ধারণার উদ্ভব ও আন্দোলন সংগঠিত হয়েছিল। যা ব্রিটিশবিরােধী আন্দোলনের চূড়ান্ত বীজ রােপণ করে।

প্রশ্ন ৩

প্রশ্ন ৯ ঘটনা-১: অরিন গত সপ্তাহে ইন্টারনেটে একটা ভিডিও চিত্র অনুপ্রাণিত করে। পাঠ-৫, ৬ ও ৭ব বাে, ১৯/

দেখছিল। সেখানে আনুমানিক ২০/২৫ বছর বয়সী একজনকে দেশ শাসনের দায়িত্বে দেখল। তার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই কিছু নিকট আত্মীয় ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে তার বিরােধিতা করে। নিকট আত্মীয়স্বজনদের পক্ষ নেয় তার পরিষদের কিছু কর্মকর্তা, প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ ও ইংরেজ বণিকরা। অবশেষে উক্ত শাসকের করুণ পরিণতি লক্ষ করা যায় । ঘটনা-২: উনবিংশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত উচ্চ শিক্ষার প্রতিষ্ঠানটি এদেশের জনগণের চাকরির সুবিধাসহ সরকারের সুনজরে পড়তে ভূমিকা রাখে। ফলস্বরূপ এদেশের জনগণের দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশ ঘটে, যা আজকের তরুণ সমাজকে

ক, ঔপনিবেশিক শাসন কী? 

খ. বাংলায় ইংরেজজ। শাসন প্রতিষ্ঠার একটি কারণ ব্যাখ্যা করাে। 
 গ. অরিনের দেখা ভিডিও চিত্রের সাথে যে ঐতিহাসিক ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে তা ব্যাখ্যা করাে। 


ঘ.“ঘটনা-২ এরর প্রভাব আজকের তরুণ সমাজকে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ করে।”– তুমি কি এ বক্তব্যের সাথে একমত? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেখাও। 

উওরঃ

 একটি দেশের যখন অন্য কোনাে দেশ দখল করে সেখানে উপনিবেশ শতিষ্ঠা করে তখন তাকে ঔপনিবেশিক শাসন বলে।

বাংলায় ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠার একটি কারণ হলাে শাসকদের প্রতি বাংলার মানুষের উদাসীনতা।

দুইশাে বছরের স্বাধীন সুলতানি আমল ছাড়া বহিরাগত শাসকদের সময়ে বাংলার সাধারণ মানুষ চরম অর্থনৈতিক শােষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এ জন্য তারা শাসকদের প্রতি বিমুখ ও উদাসীন ছিল। ফলে ইংরেজ আক্রমণে নবাবের পতন সম্পর্কে তাদের কোনাে ধারণা বা আগ্রহ ছিল না। এতে ইংরেজরা সহজেই বাংলায় শাসন প্রতিষ্ঠা করে।

গ। অরিনের দেখা ভিডিও চিত্রের সাথে বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে ।

নবাব আলিবর্দি খাঁর মৃত্যুর পর তার প্রিয় নাতি সিরাজউদ্দৌলা মাত্র ২২ বছর বয়সে বাংলার সিংহাসনে বসেন। কিন্তু সিংহাসনে আরােহণের পরপরই তিনি বড় খালা ঘসেটি বেগম ও সেনাপতি মীর জাফর আলী খানের মতাে ঘনিষ্ঠজনদের ষড়যন্ত্রের মুখােমুখি হন। এদের সাথে ক্ষমতাবান মাড়ওয়ারি বণিক শ্রেণি ও ইংরেজরা যােগ দেয়। তাদের এই ষড়যন্ত্রের ফলে পলাশির যুদ্ধে নবাবের পরাজয় ও নির্মম মৃত্যু ঘটে এবং বাংলার ক্ষমতা ইংরেজদের হাতে চলে যায়।

উদ্দীপকে অরিন ভিডিও চিত্রে দেখতে পায়, ২০/২৫ বছর বয়সী একজন লােক দেশ শাসনের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই কিছু নিকট আত্মীয় ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে তার বিরােধিতা করে। তার পরিষদের কিছু কর্মকর্তা, প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ ও ইংরেজ বণিকরাও নিকট আত্মীয়স্বজনদের পক্ষ নেয়। অবশেষে তার করুণ পরিণতি ঘটে। ভিডিও চিত্রের এ ঘটনাটি উপরে বর্ণিত সিরাজউদ্দৌলার পতনের ঘটনাকে নির্দেশ করে। তাই বলা যায়, অরিনের দেখা ভিডিও চিত্রের সাথে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের মিল রয়েছে।

ঘ ঘটনা-২ এ নির্দেশিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাব আজকের তরুণ সমাজকে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ করে এ বক্তব্যের সাথে আমি একমত।

ইংরেজরা এদেশে তাদের শাসন পাকাপােক্ত করার লক্ষ্যে দেশীয়দের মধ্য থেকে ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত একটি অনুগত শ্রেণি তৈরিতে মনােযােগ দেয়। এলক্ষ্যে তারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় তারা ১৮৫৭ সালে উচ্চনশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে।
ঘটনা-২ এ উনবিংশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত যে করেছে।

উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কথা বলা হয়েছে, তা হলাে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় । ইংরেজরা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতাে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের ফলে এদেশের মানুষ আধুনিক শিক্ষার সংস্পর্শে আসে। এতে তাদের মধ্যে নতুন চেতনার স্ফুরণ ঘটতে থাকে। এর প্রভাবে এদেশে নবজাগরণ সৃষ্টি হয়। আধুনিক শিক্ষা ও নবজাগরণের ফলে তারা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয় ও জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশ ঘটে। সেই সাথে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও গণতান্ত্রিক অধিকার বােধেরও উন্মেষ ঘটতে থাকে। এর প্রভাবেই পরবর্তীকালে তরুণ সমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে।

উপরের আলােচনা থেকে বলা যায়, ঘটনা-২ এ নির্দেশিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রভাবই বর্তমান, তরুণ সমাজকে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ।


আজকে আমরা যা নদিলাম তা আপনারা ভালো করে পড়বেন।এবং লিখবেন। 

আশা করি পরের পোস্ট এর জন্য অপেক্ষা করবেন। আল্লাহ হাফেজ।। 

Md Nayeem Hasan neion

আমার নাম নাঈম হাসান (নিয়ন). আমি ব্লগ লিখতে ভালোবাসি .facebook

2 মন্তব্যসমূহ

নবীনতর পূর্বতন

জেএসসি